0
তামাক এবং ক্যান্সার (Tobacco and Cancer)
তামাক অর্থ নিকোটিনা টোবাকাম বা নিকোটিমা বাসটিকা বা এ সম্পর্কিত অন্য কোন উদ্ভিদ বা তার কোন পাতা বা ফসল । বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫৯৭০ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ হয় । দেশে বছরে ৩৭০০০ মেট্রিক টন তামাক উৎপাদিত হয়, ৫২২৪ মেট্রিক টন তামাক আমদানি করা হয় এবং ৯৬৩১ মেট্রিক টন তামাক রপ্তানি করা হয় । তামাক খাতে বার্ষিক আমদানি ব্যয় ১৫০ কোটি টাকা, রপ্তানি ব্যয় ৯৮ কোটি টাকা । বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়স্ক জনগোষ্ঠির মধ্যে ৩৬.৮ শতাংশ কোন না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে । তার মধ্যে ৪১ শতাংশ পুরুষ ১.৮ শতাংশ মহিলা ।
চর্বণযোগ্য তামাক ব্যবহারকারী পুরুষ ১৪.৮ শতাংশ এবং মহিলা ২৪.৪ শতাংশ। তামাক ব্যবহারে ৩০ বছরের বেশি বয়সিদের মৃত্যু ৫৭ হাজার এবং পঙ্গুত্ববরণ ৩ লাখ ৮২ হাজার ।

Tobacco and Cancer
Tobacco and Cancer

সচরাচর ব্যবহৃত তামাকজাতদ্রব্যঃ
১. বিড়ি, ২. সিগারেট, ৩. জর্দা, ৪. সাদাপাতা, ৫. গুল, ৬. খৈনি এবং ৭. হুক্কা ।

তামাকের উপাদানঃ
১. আর্সেনিক, ২. ডিডিটি, ৩. নিকোটিন, ৪. হাইড্রোজেন সায়োনাইট, ৫. তেজস্ক্রিয় উপাদান, ৬. ক্যাডমিয়াম, ৭. কার্বন মনো অক্সাইড, ৮. আলকাতরা, ৯. ফরমালডিহাইড এবং ১০. এমোনিয়া ।

স্বাস্থ্যের ক্ষতিঃ
১. ক্যান্সার,
২. স্ট্রোক,
৩. পক্ষাঘাত,
৪. হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাক,
৫. হাঁপানি,
৬. দাঁতের রোগ বা দাঁত ও মাঢ়ির ক্ষয় এবং
৭. মৃতভ্রণ বা সময়ের আগে জন্মনেয়া কম ওজন সম্পন্ন শিশু ।

অর্থনৈতিক ক্ষতিঃ
স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতি (রোগীর চিকিৎসা, অকালমৃত্যু ও পঙ্গুত্ব) ৫০০০ কোটি (আয় ২৪০০ কোটি, নিট ক্ষতি ২৬০০ কোটি টাকা)।

পরিবেশের ক্ষতিঃ
* জ্বালানি গাছগাছালি উজাড়
* সিগারেট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বাতাস দূষিত করে
* তামাক চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়
* পরিবেশ নোংরা ও দূর্ঘটনা সংঘটিত হয় ।
২০০৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থ্যার বিবৃতি, এই বছরের ৩১ মে ২০১০ বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় Gender and Tobacco with an emphasis on marketing to women.
বিশ্বের ধূমপায়ীদের মধ্যে ২০ শতাংশ মহিলা । বিশ্বের অনেক দেশে ধূমপায়ীদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তামাক শিল্পের মূল টার্গেট হলো শিশু ।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিচালক লিখেছেন, "Protecting Promoting the health of women is crucial to health and development- Not of Citizen of today but also for those of future generation."
বাংলাদেশে ২০০৩ সালে বিশ্বে সর্বপ্রথম এফসিটিসি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তামাকের ক্ষতি ও ব্যবহার কমাতে ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন পাশ করা হয়। ২৬ মার্চ ২০০৫ থেকে এ আইন কার্যকর করা হয় ।
আইনের কয়েকটি দিকঃ
* পাবলিক প্লেসে এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান নিষিদ্ধ
* তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ
* তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে কোনো দান, পুরস্কার, বৃত্তিপ্রদান, কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজন বা বিনামূল্যে নমুনা প্রদান নিষিদ্ধ
* উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটে বড় মাপের ( ৩০ শতাংশের বেশি ) স্বাস্থ্য সম্পর্কিত মুদ্রণ করবে ।

জাতীয় লক্ষ্যঃ
* তামাকের ব্যবহার কমানো বা নিয়ন্ত্রণে গ্রৃহীত পদক্ষেপ
* স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রণালয় National Strategic Plan of Action for Tobacco Control 2007-2010 এর আশু করণীয়-
* বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা
* তামাকজাত পণ্যের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে অধিক হারে করের বৃদ্ধি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা তৈরি করা
* বিদ্যমান আইনের দুর্বলতাগুলো দূর করা
* চর্বণযোগ্য ও অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা
* তামাকের উপর যথাযথ নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলা
* জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে
* জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল কাজ শুরু করেছে
* সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলেছে
* আইন বাস্তবায়নে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে ।

ধূমপান ছাড়ার উপায়ঃ
* ধূমপান ছাড়ার জন্য নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে
* যারা ধূমপান ছেড়েছে তাদের সাথে ধূমপান ছাড়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে হবে
* পরিবারের সদস্য বা ঘনিষ্ঠদের সাথে এ বিষয়ে খোলামেলা আলাপ করতে হবে
* ধূমপান ছাড়ার জন্য সবার সহযোগিতা নিতে হবে
* যেসব জায়গায় গেলে ধূমপান করার ইচ্ছা হয়, সেসব জায়গায় যাওয়া বন্ধ করতে হবে
* একদিন আগে ঘরের সব সিগারেটের প্যাকেট, ছাইদানি ও লাইটার বা ম্যাচ ফেলে দিতে হবে
* ধূমপান ছাড়ার দিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে
* কখনো ধূমপানের চিন্তা করা যাবে না
* ধূমপানের চিন্তা এলেই অন্য কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে হবে
* মুখে আমলকী, সুপারি, চুইংগাম বা লজেন্স রাখা যেতে পারে ।


ডাঃ মোঃ ইয়াকুব আলী
এফসিপিএস(রেডিওথেরাপি)

Post a Comment

 
Top