0
ডায়রিয়া কীঃ
সাধারণত পরিপাকতন্ত্রে ভাইরাস (Virus), ব্যাকটেরিয়া (Bacteria) বা পরজীবী (Parasites) সংক্রমণের কারণেই ডায়রিয়া হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এ সময় ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রধান কারণ রোটা ভাইরাস (Rota Virus), কখনও কখনও নোরো ভাইরাস (Nora Virus)। তবে পাতলা পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে (Blood with stool) বা প্রবল জ্বর (High fever) দেখা দিলে তা ভাইরাস নয়, বরং ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণের (Infection) কারণে হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে। ডায়রিয়া বর্ষাকালেও বেশি হয়।

Diarrhea and Homeopathy treatment
Diarrhea and Homeopathy treatment

কেন হয়ঃ
ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। দূষিত পানি পান করার মাধ্যমে এ রোগ হয়। ডায়রিয়ার মূল কারণ জীবাণু সংক্রমণ অর্থাৎ ভাইরাস, ফাঙ্গাসের আক্রমণ। এসব জীবাণু মূলত খাবার ও পানির মাধ্যমে মানুষের অন্ত্রে প্রবেশ করে ও সেখানে বংশবৃদ্ধি করে। এদের সংখা যখন বেশি হয়, তখন ডায়রিয়া রোগের সৃষ্টি হয়। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, অপরিচ্ছন্ন উপায়ে খাদ্য সংরক্ষণ (Storage of food) এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের (Load shedding) জন্য এ সময় দোকান (Shop), রেস্তোরাঁ (Restaurant) বা বাসায় ফ্রিজের (Fridge) খাবারে পচন ধরা (Putrefaction) ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ।

লক্ষণঃ
* ঘন ঘন পাতলা পায়খানা।
* পায়খানার সাথে বমি থাকতে পারে।
* শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে (Weak) নিস্তেজ হতে থাকে।
* অবশেষে পানিশূন্যতা দেখা দেয়।

প্রতিরোধঃ
* সব সময়ই বিশুদ্ধ পানি বা নলকুপের পানি পান করতে হবে। রান্না, ধোয়া ও হাত ধোয়ার পানি বিশুদ্ধ হতে হবে।
* মলত্যাগের পর (After feces) ও খাবারের আগে (Before eat) অবশ্যই ভালোভাবে হাত ধুইতে হবে। সাবান দিয়ে ধুতে পারলে সবচেয়ে ভালো। তবে সাবান সহজলভ্য না হলে মাটি দিয়ে ধুলেও চলবে।
* ডায়রিয়া রোগীর মল (Feces of diarrhea) মাটিতে পুঁতে ফেলতে পারলে রোগ কম ছড়াবে।
* খাদ্যসামগ্রী সব সময় ঢেঁকে রাখতে (Cover food) হবে, যাতে কোন মাছি বসতে না পারে।
* পচাঁ, বাসি খাদ্য খাওয়া যাবে না।
* শাকসব্জি ও ফল  (Vegetables and fruits)ভালোভাবে খাবার পানি দিয়ে ধোয়া উচিত।
* বন্যার সময় টিউবওয়েলের ( Tube well ) পানিও অনেক সময় নিরাপদ নয়। এ সময় টিউবওয়েলের পানিও বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাঃ
ডায়রিয়া রোগের প্রথম ও কার্যকরী চিকিৎসা (First and effective treatment) হচ্ছে পানিশূন্যতা রোধ করা। শরীরে পর্যাপ্ত পানির জোগান দিতে পারলেই এটা সম্ভব। সঙ্গে পূরণ করতে হবে পায়খানার সাথে বের হয়ে যাওয়া খনিজ লবণের অভাবও।
* বাড়িতে তৈরি ওরস্যালাইন বা খাবার স্যালাইন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা রোধ করতে পারে। ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে এ চিকিৎসাটি কার্যকর। এক চিমটা লবণ (Salt), এক মুঠো গুড় বা চিনি (Sugar) এবং আধা লিটার পানি (Water) দিয়ে বাড়িতে তৈরি করা যায় একটি আদর্শ রিহাইড্রেশন দ্রবণ।
* ডাবের পানি, চাল ধোয়া পানি (Rice washes water), চিঁড়া ধোয়া পানি, লবণ, চা, সুপ, গুড়ের দ্রবণ এসবই ডায়রিয়ার সৃষ্ট পানিশূন্যতা পূরণে সহায়তা করে।
* এসবের পাশাপাশি রোগীকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। যদি ৩ দিনের মধ্যে ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রিত না হয় বা ডায়রিয়ায় শরীর দ্রুত খারাপ হতে থাকে বা পাতলা পায়খানার সাথে বমি হয় (Vomit), তবে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন (Early consult with doctor) হতে হবে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ
স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন (Expert) ও রেজিস্টার্ড (Registered) হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের (Homeopath) সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।
চিকিত্সার সহায়ক ঔষধগুলো নিম্নরুপঃ
আর্সেনিক এল্ব, এলো সকোট্রিনা, এন্টিম ক্রোড, ইপিকাক, সিনা, ব্রায়োনিয়া, ক্যালকেরিয়া কার্ব, ক্যামোমিলা, সাইলিসিয়া, লাইকোপোডিয়াম, ল্যাকেসিস, নাক্স ভম, বেলাডোনা, জেলসেমিয়াম, মার্ক সল, ন্যাট্রাম মিউর, ন্যাট্রাম কার্ব, পালসেটিলা, গ্লোনয়িন, ফসফরাস, সালফার ভিরেট্রাম এল্ব ইত্যাদি।

Post a Comment

 
Top