ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথি কিভাবে এসেছিল। ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথির ইতিহাসের সাথে যুক্ত হচ্ছেন ফরাসি চিকিৎসক যার নাম ডাঃ জন মার্টিন হোনিগবার্গার।
ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথি কিভাবে এসেছিল।
জন মার্টিন হোনিগবার্গারঃ
জন মার্টিন হোনিগবার্গার এমডি (১০ মার্চ ১৭৯৫ - ১৮ ডিসেম্বর ১৮৬৯) ছিলেন একজন রোমানিয়ান স্যাক্সন অর্থোডক্স চিকিৎসক ছিলেন, যিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকে কনভার্ট হয়েছিলেন।ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথির ইতিহাসের সাথে যুক্ত হচ্ছেন ফরাসি চিকিৎসক যার নাম ডাঃ জন মার্টিন হোনিগবার্গার।
ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথি কিভাবে এসেছিল। |
তিনি রুমানিয়ার ট্রান্সিলভেনিয়ার একটি শহর ক্রস্টডটে (ব্রাসোভ) জন্মগ্রহণ করেন। ডিস্টিংশনের সাথে স্নাতক পাশ করার পর, তিনি ১৮১৫ সালে ট্রান্সিলভেনিয়া ত্যাগ করেন। দেশ ত্যাগের পর লেভান্ট, মিশর, আরব, পারস্য এবং অতঃপর ভারতে ভ্রমণ করেন।
ডাঃ হোনিগবার্গার ১৮২৯ - ৩০ সালে লাহোরে আসেন। লাহোরে তাঁর প্রথম রোগী ছিলেন জেনারেল অ্যালার্ডের দত্তক পুত্র। তার খ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়ে, যখন তিনি পাগল শেয়ালের কামড়ের ফলে হাইড্রোফোবিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া কিছু সৈন্যকে নিরাময় করেছিলেন।
ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথি কিভাবে এসেছিল।
মহারাজা রঞ্জিত সিং তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন, যখন তার প্রিয় ঘোড়াটির পায়ের খারাপ আলসারের চিকিৎসা করেছিলেন। পরে তাকে গুরুতর অসুস্থ পাঞ্জাবের মহারাজা রঞ্জিত সিং-এর ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতঃপর তিনি বেশ কিছুদিন লাহোরে অবস্থান করেন।স্বদেশে ফেরার জন্য মন কাতর থাকায়, হোনিগবার্গার ১৮৩৪ সালে নিজ দেশে ফিরে যান। পরের বছর, তিনি প্যারিসে যান এবং ডাঃ হ্যানিম্যানের সাথে দেখা করেন। ১৮৩৬ সালে তিনি ভিয়েনা যান এবং কলেরার সংক্রমণে ভুগছিলেন, এতে তিনি ইপিকাক (Ipecac) ওষুধ দ্বারা আরোগ্য হয়েছিলেন।
এরপর তিনি কনস্টান্টিনোপলে অনুশীলনের জন্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেন। মহারাজা রঞ্জিত সিং তাকে ফেরত চান জানতে পেরে তিনি ১৮৩৯ সালে লাহোরে পৌঁছান। পরে তিনি মহারাজার মৃত্যুর পরেও লাহোরে থেকে যান এবং তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই লেখেন - 'প্রাচ্যের পঁয়ত্রিশ বছর' 'Thirty five Years in the East'।
ভারত বর্ষে হোমিওপ্যাথি কিভাবে এসেছিল।
তিনি কনস্টান্টিনোপলে অনুশীলনকালীন সময়ে ইগ্নেসিয়া দ্বারা প্লেগের চিকিৎসা করেছিলেন। তিনি ইগ্নেসিয়া ব্যবহার করেছিলেন, কারণ তিনি সেখানে আর্মেনীয়দের ব্যবহৃত মালায় ইগ্নেসিয়ার বীজ বাঁধা দেখেছিলেন এবং যা তাদের সুরক্ষা দিতে বলে মনে করতেন।তিনি অ্যারেনিয়া ডায়াডেমা দিয়ে রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা করেছিলেন, যা তাকে নাম এবং খ্যাতি উভয়ই এনে দিয়েছিল। তার খুবই লাভজনক অনুশীলন বা প্রাকটিস ছিল।
মহারাজার মৃত্যুর পর, তার অবস্থান এবং প্রভাব হ্রাস পায়। সরদার জওহর সিং ক্ষমতায় আসার পর তাকে কোর্ট ফিজিশিয়ান এবং গানপাউডার মিলের পরিচালক হিসাবে তার পূর্বের পদে পুনরুদ্ধার করা হয়।
১৮৪৯ সালে, স্যার হেনরি লরেন্স পাঞ্জাবকে অধিভুক্ত করেন। শিখ দরবার বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে তাকে তার পদ ত্যাগ করতে হয়েছিল। তাকে পেনশন দেওয়া হয়েছিল। পরে হোনিগবার্গার তার নিজ শহর ব্রাসোভে ফিরে আসেন যেখানে তিনি ১৮৬৯ সালের ডিসেম্বরে মারা যান।
পরিশেষে, বলা যেতে পারে যে ডাঃ হোনিগবার্গারই প্রথম ব্যক্তি যিনি ডাঃ হ্যানিম্যানের নাম এবং তাঁর নিরাময় শিল্প ভারতে পরিচিত করেছিলেন।
COMMENTS