বুকের দুধ খাওয়ানোর সচেতনতা একান্ত জরুরী। মায়ের দুধই শিশুদের সম্পূর্ণ খাদ্য। পৃথিবীর কোনো খাদ্যই মায়ের বুকের দুধ প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
বুকের দুধ খাওয়ানোর সচেতনতা একান্ত জরুরী।
শিশুর সু-স্বাস্থ্যের জন্য ধারণাতীত গুরুত্বপূর্ণ কিছু যদি থাকে, তা হল বুকের দুধ খাওয়ানো। আজকাল বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেই জানে কিন্তু যখন এটির ব্যবহারিক প্রয়োগের কথা আসে, তখন স্তনের দুধ সরবরাহ কম বলে অনেকেই দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে যাচ্ছে।মায়েরা দুধই শিশুদের সম্পূর্ণ খাদ্য, এটা বোঝার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। পৃথিবীর কোনো খাদ্যই মায়ের বুকের দুধ প্রতিস্থাপন করতে পারে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সমগ্র বিশ্বের কোন স্তন্যপায়ী প্রাণী তার সন্তানদের অন্যের দুধ খাওয়ায় না। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী একমাত্র মানুষ যে, তার স্বাধীনতাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভুল উপায়ে ব্যবহার করে।
![]() |
বুকের দুধ খাওয়ানোর সচেতনতা একান্ত জরুরী। |
নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ উল্লেখ করা হলো যাতে একজন মা অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান -
শিশুর উপকারিতাঃ
- শিশুর স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিশুর বিকাশ নিশ্চিত করে।
- শৈশবের স্থুলতার মতো সমস্যাগুলি দূর করে।
- বোতলজাত খাবার খাওয়ানো শিশুদের তুলনায় বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ এবং অ্যালার্জির প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে।
- মা এবং শিশুর মধ্যে খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধন নিশ্চিত করে।
- বুকের দুধ খাওয়ানো বাচ্চাদের দাঁত উঠার সময় ডায়রিয়া এবং বমি হওয়ার ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশ কম থাকে।
- স্তন্যপান করানো শিশুদের দাঁতের কাঠামো ভালো আকৃতির থাকে (বিশেষ করে ইনসিসর বা ছেদক)।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস বা বাত ইত্যাদির মতো প্রাপ্তবয়স্ককালীন রোগের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে হ্রাস করে।
- বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের মধ্যে কানের সংক্রমণ কমাতেও দেখা গেছে, যার ফলে শিশুদের বারবার অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।
- বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের সারাজীবনে দাঁতের ক্যাভিটিস বা গহ্বর কম হয়।
- বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের মানসিক, আচরণগত এবং আবেগময় সমস্যা কম হয়।
মায়ের উপকারিতাঃ
- যে মা তাঁর শিশুকে ভালোভাবে বুকের দুধ খাওয়ান তিনি গর্ভাবস্থায় অর্জিত চর্বি বা ওজন দ্রুত কমাতে সক্ষম হন।
- স্তন্যপান করালে মায়ের মধ্যে একটি হরমোন নিঃসৃত হয় (অক্সিটোসিন), যা জরায়ুকে খুব দ্রুত তার স্বাভাবিক আকারে ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলির মধ্যে একটি হল – বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের পরবর্তী জীবনে অস্টিওপরোসিস হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে এবং তাদের স্তন, জরায়ু এবং ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে।
- শিশুর সাথে একটি শক্তিশালী মানসিক বন্ধন তৈরি হয়।
উপরিউক্ত বিশাল উপকারিতা বিবেচনা করে, যে কোনও মায়েরা অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।
ডায়েটঃ
- খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান।
- আপনার প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় দই, বাটারমিল্ক, কটেজ চিজ, পাস্তুরিত দুধ, বাদাম, গাজর, পালং শাক, টমেটো, আখরোট, সূর্যমুখী বীজ, কুমড়ার বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন।
COMMENTS