রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। রক্তস্বল্পতায় রক্তে লোহিত রক্ত কনিকা কম থাকে, যাতে শরীরের কাজে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখায়।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি
সংজ্ঞাঃ রক্তাল্পতা এমন একটি অবস্থা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যেখানে লোহিত কণিকার সংখ্যা বা তাদের অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা শারীরবৃত্তীয় চাহিদা পূরণের জন্য অপর্যাপ্ত। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সাধারণ ব্যাধি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল ডাটাবেসে, ১.৬ বিলিয়ন মানুষ রক্তস্বল্পতায় আক্তান্ত করে বলে তথ্য প্রদান করেছে।
রক্তস্বল্পতা একটি গুরুতর বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য সমস্যা যা বিশেষ করে অল্পবয়সী শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের আক্রান্ত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বব্যাপী ৫ বছরের কম বয়সী ৪২% শিশু এবং ৪০% গর্ভবতী মহিলাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে।
হোমিওপ্যাথি একটি জনপ্রিয়, সহজলভ্য এবং কার্যকরী চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা বেশ ভুমিকা রাখছে।
![]() |
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা |
লক্ষণঃ
অ্যানিমিয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছেঃ
- ক্লান্তি।
- দুর্বলতা।
- শ্বাসকষ্ট বা নিঃশ্বাসের দুর্বলতা।
- ফ্যাকাশে বা হলুদ ত্বক, যা কালো বা বাদামী ত্বকের চেয়ে সাদা ত্বকে বেশি স্পষ্ট হতে পারে।
- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন।
- মাথা ঘোরা বা হালকা মাথাব্যথা।
- বুক ব্যাথা।
- হাত পা ঠান্ডা।
- মাথাব্যথা।
রক্তস্বল্পতার চিহ্নঃ
- ফ্যাকাশে - ফ্যাকাশে হল সবচেয়ে সাধারণ এবং বৈশিষ্ট্যযুক্ত চিহ্ন যা কনজাংটিভা এবং ত্বকে দেখা যেতে পারে।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র - নির্জীবতা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, তন্দ্রা, অবশতা এবং হাত ও পায়ের শিহরণ অনুভূতির মতো উপসর্গ থাকতে পারে।
- কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম - ট্যাকিকার্ডিয়া (দ্রুত হৃদস্পন্দন), নাড়ির গতি কমে যায়, হৃদপিন্ডের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। সামান্য পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট এবং কিছু বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওরও অন্তর্ভুক্ত।
- অকুলার বহিঃপ্রকাশ - রক্তপাত ডায়াথেসিসের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে রেটিনায় রক্তক্ষরণ ঘটতে পারে।
- প্রজননতন্ত্র - মাসিকের সমস্যা যেমন রক্তস্রাব বন্ধ, এবং অতিরিক্ত রক্তস্রাব এবং যৌন ইচ্ছা হ্রাস ঘটতে পারে।
- বৃক্ক তন্ত্র - গুরুতর ধরণের রক্তাল্পতায় প্রস্রাবের সাথে হালকা প্রোটিন/ এলবুমিন যেতে পারে। কিডনির নিয়মিত কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
- পরিপাক তন্ত্র - ক্ষুধাহীনতা, পেট ফাঁপা, বমি বমি ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ওজন হ্রাস হতে পারে।
রক্তস্বল্পতার কারণসমূহঃ
রক্তে পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন বা লোহিত রক্তকণিকা না থাকলে রক্তস্বল্পতা হয়।
বিভিন্ন ধরণের রক্তাল্পতার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। যথাঃ
- লৌহের অভাবজনিত রক্তাল্পতাঃ এটি সবচেয়ে সাধারণ রক্তস্বল্পতা। হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে অস্থি মজ্জায় আয়রন প্রয়োজন। পর্যাপ্ত আয়রন ছাড়া রক্ত কোষ পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে পারে না। গর্ভবতী মহিলারা আয়রন সাপ্লিমেন্ট না নিলে এই ধরনের রক্তস্বল্পতা হতে পারে। রক্তক্ষরণ, মাসিকের ভারী রক্তপাত, আলসার, ক্যান্সার বা কিছু ব্যথা উপশমকারী, বিশেষ করে অ্যাসপিরিনের নিয়মিত ব্যবহার থেকেও রক্তক্ষরণ হতে পারে।
- ভিটামিনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতাঃ আয়রন ছাড়াও, শরীরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য ফোলেট এবং ভিটামিন বি - ১২ প্রয়োজন। যে খাদ্যে এগুলি পর্যাপ্ত পরিমাণ নেই, সেক্ষেত্রে শরীর পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না। এছাড়াও, কিছু মানুষ ভিটামিন বি - ১২ শোষণ করতে পারে না।
- প্রদাহ জনিত রক্তস্বল্পতাঃ চলমান প্রদাহ সৃষ্টিকারী রোগগুলি শরীরকে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে পারে। উদাহরণ হল - ক্যান্সার, এইচআইভি/ এইডস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, কিডনি রোগ এবং ক্রোনস রোগ।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।
- এপ্লাস্টিক রক্তস্বল্পতাঃ এই বিরল, জীবন-হুমকিকারী রক্তস্বল্পতা ঘটে, যখন শরীর পর্যাপ্ত নতুন রক্তকণিকা তৈরি করতে না পারে। অ্যাপ্লাস্টিক রক্তস্বল্পতার কারণগুলির মধ্যে রয়েছে সংক্রমণ, নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ, অটোইমিউন রোগ এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে।
- রক্তস্বল্পতা অস্থি মজ্জা রোগের সাথে যুক্ত - লিউকেমিয়া এবং মায়েলোফাইব্রোসিসের মতো রোগগুলি অস্থি মজ্জার রক্ত তৈরিকে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরনের রোগের প্রভাব মৃদু থেকে প্রাণঘাতী পর্যন্ত হতে পারে।
- হেমোলাইটিক রক্তস্বল্পতাঃ রক্তাল্পতার এই গ্রুপটি অস্থি মজ্জা দ্বারা তৈরীকৃত লোহিত রক্তকণিকা প্রতিস্থাপনের চেয়ে দ্রুত লোহিত রক্তকণিকাকে ধ্বংস করে। কিছু রক্তের রোগ দ্রুত লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করে দেয়। কিছু ধরণের হেমোলাইটিক রক্তস্বল্পতা পারিবারিকসূত্রে আসতে পারে।
- সিকেল সেল রক্তস্বল্পতাঃ এটি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত এবং কখনও কখনও গুরুতর অবস্থার এক ধরনের হেমোলাইটিক রক্তস্বল্পতা। এক্ষেত্রে হিমোগ্লোবিন লোহিত রক্তকণিকাকে একটি অস্বাভাবিক অর্ধচন্দ্রাকৃতি (ক্রিসেন্ট) আকার ধারণে বাধ্য করে, যাকে সিকেল বলা হয়। এই অনিয়মিত আকারের রক্তকণিকাগুলো খুব তাড়াতাড়ি মারা যায়। যাতে রক্তকণিকা ক্রমাগত ঘাটতি সৃষ্টি হয়।
রক্তস্বল্পতা ঝুঁকির কারণঃ
নিম্নোক্ত কারণগুলি রক্তাল্পতার ঝুঁকি বাড়াতে পারেঃ
- এমন খাদ্য যাতে পর্যাপ্ত কিছু ভিটামিন এবং খনিজ থাকে না। খাদ্যে পর্যাপ্ত আয়রন, ভিটামিন বি - ১২ এবং ফোলেট না পাওয়া গেলে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়।
- ক্ষুদ্রান্ত্রের সমস্যা - শরীরে কিছু অবস্থা ছোট অন্ত্রের পুষ্টি গ্রহণ প্রভাবিত করে, যা অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। উদাহরণ হল - ক্রোন রোগ এবং সিলিয়াক রোগ।
- মাসিক - সাধারণভাবে, ভারী মাসিক হওয়া রক্তাল্পতার বা রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মাসিকের ফলে লোহিত রক্ত কণিকার ক্ষতি হয়।
- গর্ভাবস্থা - গর্ভবতী মহিলা যারা ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রনের সাথে মাল্টিভিটামিন খান না তাদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।
- চলমান, দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অবস্থা - ক্যান্সার, কিডনি ফেইলোর, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের অবস্থা রক্তাস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়। এই অবস্থার কারণে খুব কম লোহিত রক্তকণিকা থাকতে পারে।
- পারিবারিক ইতিহাস - পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এক ধরনের রক্তস্বল্পতা পরিবারের অন্যান্যদের মধ্যে চলে আসে, যাকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বলা হয়। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত রোগ অ্যানিমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যেমন সিকেল সেল অ্যানিমিয়া।
- অন্যান্য কারণের - নির্দিষ্ট সংক্রমণ, রক্তের রোগ এবং অটোইমিউন অবস্থার ইতিহাস রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বাড়ায়। অত্যধিক অ্যালকোহল পান করা, বিষাক্ত রাসায়নিকের আশেপাশে থাকা এবং কিছু ওষুধ গ্রহণ লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- বয়স - ৬৫ বছরের বেশি বয়সী লোকেদের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
রক্তস্বল্পতার জটিলতাঃ
যদি সঠিক চিকিৎসা করা না হয়, রক্তস্বল্পতা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমনঃ
- তীব্র ক্লান্তি - গুরুতর রক্তস্বল্পতা দৈনন্দিন কাজগুলি করা অসম্ভব করে তুলতে পারে।
- গর্ভাবস্থার জটিলতা - ফোলেটের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা গর্ভবতী মহিলাদের অকাল জন্মের মতো জটিলতা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।
- হৃদপিণ্ডজনিত সমস্যা - রক্তস্বল্পতার কারণে দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে, যাকে অ্যারিথমিয়া বলা হয়। রক্তস্বল্পতার কারণে, রক্তে খুব কম অক্সিজেনের জন্য হৃৎপিণ্ডকে বেশি রক্ত পাম্প করতে হয়। ফলে হার্ট বড় বা স্ফিত হয় বা হার্ট ফেইলিউরও হতে পারে।
- মৃত্যু - কিছু উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত অ্যানিমিয়া, যেমন সিকেল সেল অ্যানিমিয়া, জীবন-হুমকিকারী জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। রক্ত দ্রুত ক্ষরণের ফলে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা হয় এবং মৃত্যুও হতে পারে।
রক্তস্বল্পতা ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষাঃ
১. ইতিহাসঃ
- ইতিহাসের মূল্যায়নের মধ্যে রয়েছে বয়স এবং লিঙ্গ, মাদক গ্রহণ, পেশা, খাদ্য, রক্তপাত, পারিবারিক ইতিহাস, পরিপাক ত্বন্ত্রের লক্ষণ, প্রজনন স্বাস্থ্য বা মাসিক সমস্যা, প্রস্রাবের সমস্যা, স্নায়বিক ব্যাধি, রক্তপাতের প্রবণতা ইত্যাদি।
- সম্পূর্ণ ইতিহাস সম্ভাব্য কারণের দিকে নির্দেশ করার জন্য যথেষ্ট। কোন রোগের অন্তর্নিহিত কারণ নির্ণয় করা গেলে তার চিকিৎসা করা সহজ।
২. শারীরিক পরীক্ষাঃ
- ত্বক - ত্বকের রং, রক্তক্ষরণের ফলে ত্বকে ছোট ছোট দাগ (Petechia) এবং ত্বকে বেগুনি, কালো নীল বা কালশিটে দাগ (Ecchymosis)। পার্নিসিয়াস রক্তস্বল্পতা অবস্থায় ত্বক লেবু হলুদ রঙের দেখা যেতে পারে, রক্তক্ষরণে ত্বকে ছোট ছোট দাগ অ্যাপ্লাস্টিক রক্তস্বল্পতা বা লিউকেমিয়ার নির্দেশ করে।
- কনজাংটিভা - রক্তাল্পতার কারণে ফ্যাকাশে দেখায়
- নখ - নখের ভঙ্গুরতা, দীর্ঘস্থায়ী আয়রনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা বোঝায়
- মুখ - মুখের তালুতে, গাল বা জিহ্বায় ছোট ছোট রক্তক্ষরণের দাগ অ্যাপ্লাস্টিক রক্তস্বল্পতায় এবং লিউকেমিয়া, ও লিউকেমিয়াতে মাড়িও ফুলে যায়। তরুন জিহ্বার প্রদাহ বা ঘা, বা মসৃণ জিহ্বা মেগালোব্লাস্টিক রক্তস্বল্পতায় এবং কখনও কখনও আয়রনের অভাবজনিত কারণে হয়। গলার ক্ষত তরুন অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় বা তরুন লিউকেমিয়ায় হয়।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।
- কার্ডিও ভাস্কুলার সিস্টেম - কিডনীর বর্জাপসারণ বা সঠিক রেচন না হওয়ার কারণে রক্তস্বল্পতায় উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়।
- পেট - লিউকেমিয়া, মেগালোব্লাস্টিক রক্তস্বল্পতায়, হেমোলাইটিক রক্তস্বল্পতায় সাধারণত প্লীহার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়।
- পেটের পিণ্ড - পেটের কার্সিনোমা, দীর্ঘস্থায়ী লিম্ফ্যাটিক লিউকেমিয়া (chronic lymphatic leukemia)।
- হাড় পরীক্ষা - রক্তস্বল্পতার কারণে হাড়ের ভঙ্গুরতা থাকতে পারে
- লিম্ফনোড - লিউকেমিয়াতে বহিরঙ্গের লিম্ফনোডগুলি স্পষ্ট হতে পারে
- স্তন - কার্সিনোমা প্রমাণের জন্য
- শ্রোণী পরীক্ষা - মহিলাদের অতিরজঃস্রাব (menorrhagia) পরীক্ষার জন্য দরকারী
- মলদ্বার পরীক্ষা - অর্শ্বরোগ এবং মলদ্বার রক্তপাত নির্ণয় করতে
৩. ল্যাবরেটরি পরীক্ষাঃ
- হিমোগ্লোবিনের হার
- পেরিফেরাল ব্লাড ফিল্ম
- লোহিত রক্ত কোষের সূচক
- লিউকোসাইট এবং প্লাটিলেট গণনা
- এরিথ্রোসাইটিক অবক্ষেপণের হার
- রেটিকুলোসাইট গণনা
- অস্থি মজ্জা পরীক্ষা
রক্তস্বল্পতার প্রতিরোধঃ
অনেক ধরনের রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করা যায় না। কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাদ্য খেলে আয়রনের অভাবজনিত এবং ভিটামিনের অভাবজনিত রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত:
- লোহা - আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে গরুর মাংস এবং অন্যান্য মাংস, ডিম, মটরশুটি, মসুর ডাল, আয়রনযুক্ত সিরিয়াল (দানা শস্য (ওটস/ গম/ চাল/ বার্লি/ ভুট্টা ইত্যাদি দ্বারা তৈরী যা সকালের নাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়), গাঢ় সবুজ শাক, এবং শুকনো ফল যেমন কিশমিশ, বাদাম, ইত্যাদি। পালং শাক, মেথি, আমড়া পাতা এবং লেটুস পাতায় উচ্চ পরিমাণে আয়রণ থাকে।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা।
- ফোলেট - ফোলেট, এবং এর মানবসৃষ্ট ফর্ম ফলিক অ্যাসিড, ফল এবং ফলের রস, গাঢ় সবুজ শাক, সবুজ মটর, শিম, মটরশুঁটি, চিনাবাদাম এবং শস্যজাত সমৃদ্ধ দ্রব্য যথা - রুটি, সিরিয়াল, পাস্তা এবং ভাতে পাওয়া যায়।
- ভিটামিন বি - ১২ - ভিটামিন বি - ১২ সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে মাংস, ডিম, দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং শক্তিশালী সিরিয়াল এবং সয়া পণ্য।
- ভিটামিন সি - ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে সাইট্রাস ফল এবং জুস, গোলমরিচ, ব্রকলি, ফুলকপি, টমেটো, বাঙ্গি, আপেল, কমলা এবং স্ট্রবেরি এগুলো শরীরকে আয়রন গ্রহণ করতেও সাহায্য করে।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি সবচেয়ে জনপ্রিয় সামগ্রিক চিকিৎসা পদ্ধতিগুলির মধ্যে একটি। সামগ্রিক রোগীলিপি ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র এবং উপসর্গের মিলের তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি ওষুধ নির্বাচন করা হয়।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার অবশ্যই একজন দক্ষ ও যোগ্যতা সম্পন্ন চিকিৎসকের স্বরনাপন্ন হওয়া উচিত। একজন দক্ষ হোমিওপ্যাথই পারবেন রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি সঠিক চিকিৎসা দিতে।
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি লেখাটিতে সহায়ক নিম্নলিখিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রয়েছেঃ
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা |
রক্তস্বল্পতায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ছাড়াও আয়রন অভাবজনিত রক্তস্বল্পতার জন্য ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করার সময় কী করবেন এবং করবেন না।
করণীয়ঃ
- খাদ্যতালিকায় বেশি করে সবুজ শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।
- আপনার আয়রন গ্রহণ বাড়াতে ডাল এবং লেবু খান।
- সব ধরনের ফল এবং শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন।
- চর্বিহীন লাল মাংস এবং কলিজা খান, যা সহজে শোষিত আয়রন সমৃদ্ধ খাবার।
- আপনি যখন আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান তখন ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করুন। ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে।
করবেন নাঃ
- আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার ২ ঘন্টা আগে এবং পরে দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
- আপনার আয়রনের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করার সময় কফি, চা এবং কোলা এড়িয়ে চলুন।
COMMENTS