0
ডেঙ্গু জ্বরঃ
সর্বপ্রথম ১৭৭৯ সালে ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে জানা যায়। ঐ সময়ে জাভার ডাক্তার ডেভিড ব্রাইলন বেটাভিয়াতে আক্রান্ত এই জ্বরকে বোন ফিভার হিসেবে উল্লেখ করেন। পরবর্তী বছরে আমেরিকার ফিলাডেলফিয়াতে ডেঙ্গুজ্বরের আবির্ভাবের সময় ডাঃ রুস একে মহামারী বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশে ১৯৬৫ সালে "ঢাকা জ্বর" হিসেবে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
বৃষ্টির কারণে এখানে ওখানে পানি জমে থাকে, যা ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশার বংশবৃদ্ধির পক্ষে খুবই সহায়ক। কারন এডিস মশা জমে থাকা পরিস্কার পানিতে ( যেমন- ফুলের টব, নারকেলের মালা, ছাদের কার্নিস এবং যেখানে সেখানে পড়ে থাকা টিনের কৌটা, প্লাস্টিকের পাত্র, গাড়ির টায়ার, টিউব ইত্যাদি ) বংশ বৃদ্ধি করে। এসব কারণে বর্ষাকালে এডিস মশার প্রকোপও বাড়ে। তাই বাড়ে ডেঙ্গুরোগের প্রাদুর্ভাবও।

Dengue fever and Homeopathy treatment
Dengue fever and Homeopathy treatment


ডেঙ্গু জ্বরের কারণঃ
ডেঙ্গু ভাইরাসই ডেঙ্গু জ্বরের মূল কারণ। ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস মশার মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে ছড়ায়।

লক্ষণঃ
সাধারণত ক্লাসিক্যাল ও হেমোরেজিক দুই ধরনের ডেঙ্গুজ্বর আমাদের দেশে দেখা যায়। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গুজ্বর সাধারণ জ্বরের মতই। তবে হেমোরেজিক জ্বরে চামড়ার নিচে কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়তে পারে।
* হঠাৎ জ্বর, মাথা ব্যথা, চোখের পেছনে, কোমরে, অস্থিসন্ধি বা হাড়ে ব্যথা অনুভব।
* তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রী পর্যন্ত হতে পারে।
* জ্বর শুরুর প্রথম দুই দিনে গলায় ফুস্কুড়ি দেখা দিতে পারে।
* দ্বিতীয় থেকে ষষ্ঠ দিনে রোগীর ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব ( Nausea ), সর্দি-কাশি, গলাব্যথা , জিহ্‌বার স্বাদহীনতা হতে পারে।
* তিন-ছয় দিনের মাথায় জ্বর কমে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ( যেমন-হাত, পা, মুখ ইত্যাদি ) ফুস্কুড়ি দেখা দিতে পারে। এগুলো সাধারণত এক-পাচঁ দিন স্থায়ী হয়।
* ফুস্কুড়ি উঠার পর জ্বর আবার দেখা দিতে পারে এবং সঙ্গে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যেতে পারে।
* লালচে কাল রঙের পায়খানা।
* হঠাৎ শরীর ঘেমে যাওয়া  এবং ঠান্ডা হয়ে পড়া।

প্রতিরোধঃ
* ভোরে এবং সন্ধ্যায় মশানিধন ঔষুধ দিতে হবে এবং রাতে মশারি টানিয়ে ঘুমাতে হবে।
* বাড়ির আনাচে-কানাচে, টবে, টিনের কৌটায় বা কোনো পাত্রে, ছাদে কিংবা রাস্তাঘাটে বৃশটির পানি জমতে না দেওয়া।
* ঘরে রাখা প্রয়োজনীয় পরিস্কার পানির আধারগুলোতে কেরোসিন কিংবা একটু লবণ দিলে এডিস মশা বাড়তে পারে না।
* একোরিয়ামে ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে।
* সন্দেহজনক রোগীকে আলাদা করে অবশ্যই মশারির মধ্যে রাখতে হবে, যাতে রোগীকে কোনো মশা কামড়াতে না পারে।

প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাঃ
রক্ত পরীক্ষায় এই রোগের ভাইরাস ধরা পড়ে।

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাঃ
স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, রোগীকে অবশ্যই একজন ভালো, যোগ্যতাসম্পন্ন ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। চিকিত্সার সহায়ক ঔষধগুলো নিম্নরুপঃ
একোনাইট, আর্সেনিক এল্ব, বেলাডোনা, ব্রায়োনিয়া, ক্যান্থারিস, চায়না, ইউপেটোরিয়াম পারফো, জেলসেমিয়াম, ইপিকাক, নাক্স ভম, রাসটক্স এবং রাসভেন ইত্যাদি।


Post a Comment

 
Top