0
কৃমি কিঃ 
কৃমি হলো এক ধরণের পরজীবি যা অন্ত্রে বাস করে। কিছু কৃমি ডিম্বাণু হিসেবে মানুষের মুখের মাধ্যমে প্রবেশ করে। আবার কিছু লাভা হিসেবে ত্বকের মাধ্যমে প্রবেশ করে। কৃমি অনেক সময় মানুষের যকৃত এবং অন্য অঙ্গতেও আক্রমণ করতে পারে।

What is worm
What is worm


কৃমির প্রকারভেদঃ
কৃমি কয়েক প্রকারের/ধরণের হয়ঃ যেমন-
গোল কৃমিঃ এগুলো সাধারণত গোলাকার, পাতলা, সাদা অথবা গোলাপী রঙের হয় এবং ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি লম্বা হয়।
সুতা কৃমিঃ এগুলো সুতার মত, পাতলা, ছোট এবং সাদা রঙের হয়।
বক্র কৃমিঃ এগুলো আকারে খুবই ছোট, গারো গোলাপী রঙের হয়। এগুলো খালি চোখে দেয়া যায় না।
ফিতা কৃমিঃ এগুলো ২ থেকে ৩ মিটার লম্বা, ফিতার মত এবং সমান হয়।

কৃমির জীবাণু কিভাবে ছড়ায়ঃ
দূষিত খাবার এবং পানি গ্রহণের ফলে
কৃমিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মলের মাধ্যমে
মাটি থেকে শরীরের চামড়ার মাধ্যমে

কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়ঃ
খাবার এবং পানি সবসময় পরিষ্কার এবং নিরাপদ হতে হবে
খাবার খাওয়া ও তৈরি করার আগে, খাবার পরিবেশনকালীন সময়, খেলাধূলার পর এবং পায়খানা ব্যবহারের করার পর হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুতে হবে।
রান্নার সময় ভালোভাবে শাক-সবজি, মাংস, মাছ ধুয়ে রান্না করতে হবে।
রান্না করা খাবার ভালোমত ঢেকে রাখতে হবে
পায়খানা (Toilet) সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে
হাতের নখগুলি সব সময় ছোট এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই জুতা বা স্যান্ডেল পড়তে হবে

কৃমি হওয়ার কারণগুলিঃ 
দূষিত পানি পান করলে এবং খাবার খেলে
অসুস্থ পশুর মাংস খেলে
শাক-সবজি, মাছ, মাংস না ধুয়ে রান্না করলে এবং খেলে
খোলা জায়গায় মল-মূত্র ত্যাগ করলে
বাচ্চারা খোলামেলা মাঠে, ধূলাবালিতে খেলার পর হাত-পা ভালোমত পরিষ্কার না করলে
অন্যের ব্যবহৃত তোয়ালে, রুমাল ব্যবহার করলে
মলমূত্র ত্যাগের পর হাত ভালোমত না ধুলে

কৃমিতে আক্রান্ত  হলে নিম্নলিখিত জটিলতাগুলো দেখা দিতে পারেঃ
পুষ্টিহীনতা ও এর ফলে সৃষ্ট রক্তশূণ্যতা
শরীরের বৃদ্ধি সহজে ঘটেনা
বাচ্চাদের পেট ফুলে যায়
ফ্যাকাসে এবং দূর্বল হয়ে যাওয়া
তীব্র পেট ব্যথা
কোন কিছু শিখার ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া

সঠিকভাবে হাত ধোয়ার পদ্ধতিগুলো হলোঃ
কবজিসহ হাত পানি দিয়ে ভালোমত ভিজাতে হবে
হাতে সাবান নিয়ে দুই হাত ভালোমত ঘষতে হবে
ডান হাতের উপর বাম হাতের তালু এবং বাম হাতের উপর ডান হাতের তালু দিয়ে ভালোমত ঘষতে হবে
প্রত্যেকটি আঙ্গুলের মাঝেখানে এবং নখের নিচে ভালোমত পরিষ্কার করতে হবে
হাত হালকাভাবে মুষ্টিবদ্ধ করে আঙ্গুলের পিছনে ভালোমত ঘষতে হবে
ডান হাত দ্বারা বাম হাতের বুড়ো আঙ্গুল ভালোমত ধরে ঘষতে হবে। একইভাবে বাম হাত দিয়ে ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুল ধরে ঘষতে হবে।
হাতের তালুর উল্টা বা বিপরীত দিক দিয়ে আঙ্গুলের ডগাগুলো পরিষ্কার করতে হবে
পানি দিয়ে হাত ভালোভাবে ধুতে হবে
পরিষ্কার তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে হাত মুছে শুকাতে হবে

পানি ও খাবার নিরাপদ রাখার উপায়গুলো হলো নিম্নরুপঃ
কাঁচা শাক-সবজি ও ফলমূল খাওয়ার আগে ভালোমত ধুতে হবে
খাবার তৈরির আগে ভালোমত হাত ধুতে হবে
রান্না করা ও রান্না ছাড়া খাবার আলাদা করে রাখতে হবে
রান্না করার সময় পানি এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বা সরঞ্জাম পরিষ্কার ও নিরাপদ হতে হবে
খাবার ভালোমত রান্না করতে হবে
খাবার এবং পানি ভালোমত ঢেকে রাখতে হবে যাতে মাছি এবং অন্য কিছু যেন খাবার দূষিত করতে না পারে
খাদ্যদ্রব্য অবশ্যই সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে

পায়খানা ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো হলোঃ
অবশ্যই টয়লেট বা পায়খানায় মলমুত্র ত্যাগ করতে হবে
টয়লেট বা পায়খানা ব্যবহারের পর অবশ্যই সাবান বা ছাই এবং পানি দিয়ে ভালোমত হাত পরিষ্কার করতে হবে।

Post a Comment

 
Top