0
ইসিনোফিলঃ
ইসিনোফিল অন্যান্য রক্ত কোষ যথা- লোহিত, স্বেত রক্ত কণিকার মত অস্থি মজ্জা(bone marrow) থেকে উৎপন্ন হয়। এটি স্বেত রক্ত কণিকার একটি উপাদান। ইসিনোফিল ব্যকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবাণু বা পরজীবী মেরে ফেলে। এরা সাইটোটক্সিক অণু,সাইটোকাইনেজ নিঃসরণের মাধ্যমে এ কাজটি করে। এছাড়াও এরা পরজীবী কিটের ও ডিম্ব ধ্বংশ করে এবং এলার্জি প্রতিক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Eosinophilia and Homoeopathy
Eosinophilia and Homoeopathy


ইসিনোফিলিয়া কিঃ
রক্তে ইসিনোফিলের অস্বাভাবিক উচ্চ পরিমাণ অর্থাৎ প্রতি মাইক্রোলিটার(μL) রক্তে ৬০০ কোষের বেশিকে বুঝায়।

ইসিনোফিলিয়ার খুব সাধারণ কারণসমূহ:
* হাঁপানি (Asthma)
* একজিমা (Eczema)
* সারকপ্টেস স্কেবি(Sarcoptes scabiei)
* খোস-পাঁচড়া (Scabies)

 ইসিনোফিলিয়ার সাধারণ কারণসমূহ:
* যোজক কলা রোগ (Connective tissue disease)
* খাদ্য এলার্জি (Food allergy)
* সোরিয়াসিস (Psoriasis)
* সিস্টেমিক লোপাস এরাইথেমাটসাস (SLE)

লক্ষণঃ
* চর্ম এলার্জি
* শ্বাসকষ্ট
* কাশি
* ঘন ঘন ঠান্ডা আক্রমণ
* গলা জ্বালা বা চুলকানি বা উত্তেজনা।
* হাড় ব্যথা বা স্পর্শকাতরতা
* সিন্ড্রম অফ কারপাল টানেল ( Carpal tunnel syndrome )
* গাঁট(Joint) এর চার পাশের পেশী বা নরম কোষ শক্ত হয়ে নড়াচড়ায় বাঁধা দেয়।(Joint contractures)
* পেশী দুর্বলতা
* হাত ও পা স্পর্শকাতর হয় এবং ফুলে যায়(মাঝে মাঝে গাঁট ফুলে যায় )।
* ত্বকে লাল লাল ফুসকুড়ি হয়।
* লিম্ফ নোড বড় হয়ে যায়।
* ওজন কমে যেতে পারে।
*  রাত্রে ঘাম বেশি হয়।

পরীক্ষাঃ
ল্যাব পরীক্ষা- CBC, ESR, Circulating eosinophil, Serology for parasites.
মাইক্রোবায়োলজি- Blood culture, Urine and Stool culture & sensitivity.
ইমাজিন- CXR, CT scan.

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি ওষুধ সবচেয়ে জনপ্রিয় রোগ নিরাময়ের একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু ইসিনোফিলিয়া চিকিত্সা করা নয়, এ রোগের অন্তর্নিহিত কারণ ও স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিত্সার জন্য, অবশ্যই রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। ইসিনোফিলিয়া চিকিত্সার সহায়ক ঔষধগুলো নিম্নরুপঃ
একোনাইট, এলিয়াম সেপা, এন্টিম টার্ট, আর্সেনিক অ্যালবাম, ব্রায়োনিয়া এল্ব, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, ড্রসেরা, ফসফরাস, হিপার সালফ, ল্যাকেসিস, ভিরেট্রাম ভিরিডি, ন্যাট্রাম সালফ, সালফার, স্যাম্ভুকাস নায়াগ্রা, ক্যালি কার্ব, ক্যালি বিচ, মার্ক সল, ইপিকাক, বালসালাম পেরুভিয়ানাম, এস্ক্লেপিয়াস টিউবারসা, ন্যাপথেলিয়াম, সিনাপিস নায়াগ্রা ইত্যাদি।

Post a Comment

 
Top