0
ঠোঁটের পরিচর্যাঃ
ঠোঁট হবে আকর্ষণীয়, এটাই সবার কাম্য। কিন্তু ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়ায় ফাটাভাব, চামড়া ওঠা, ও কালচে হওয়া খুবই নিয়মিত সমস্যা। ঠোঁট মিউকাস মেমব্রেন দ্বারা আবৃত। ঠোঁটের ত্বক খুবই নরম ও সেনসেটিভ। ঠোঁটে কোনও তেলগ্রন্থি থাকে না। তাই বাইরের আবহাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা ঠোঁটের জন্য বেশ কঠিন। ঠাণ্ডা-গরম, সূর্যরশ্মি, দূষণ সবই ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর। এছাড়া ঠোঁট কামড়ানো বা জিভ দিয়ে ঠোঁট বারবার ভেজানোও ক্ষতিকর।

Lip Care
Lip Care


অপ্রয়োজনীয় প্রসাধনঃ 
অপ্রয়োজনীয় প্রসাধন ঠোঁটকে শুষ্ক করে তোলে। সাময়িক সৌন্দর্যের জন্য প্রয়োজনীয় প্রসাধন ব্যবহার করবেন না।

টুথপেস্টঃ
টুথপেস্ট আমাদের ঠোঁটের সংস্পর্শে আসে দু’বেলা। তাই যথাযথ টুথপেস্ট ব্যবহার না করলে ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে।

লিপস্টিকঃ
লিপস্টিকের কারণে ঠোঁটে অ্যালার্জি ও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। তাই আপনার ঠোঁটে যে কোম্পানির লিপস্টিক কোনও প্রতিক্রিয়া করবে না, সেটাই ব্যবহার করুন। প্রয়োজনে দামী কোম্পানির লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো।

লিপ বাম ও চ্যাপস্টিকঃ 
ফাটা ঠোঁটে লিপ-বাম ও চ্যাপস্টিক প্রয়োজন। এটা ঠোঁট কোমল ও মসৃণ করে। তবে অতি সুগন্ধিযুক্ত ও রসযুক্ত চ্যাপস্টিক ব্যবহার না করাই ভালো।

সাবানঃ
ঠোঁটের ত্বক খুবই সংবেদনশীল, তাই  ঠোঁটে সাবান দেবেন না। চোখের চারপাশ এবং ঠোঁটে সাবান ব্যবহার করলে ক্ষতি হয়।

ধুমপানঃ 
ধুমপান ঠোঁটের ত্বকে কালচেভাব আনে এবং ত্বকের ক্ষতি করে।

ভিটামিন বি এর অভাবঃ 
ভিটামিন বি 'র অভাবেও ঠোঁট ফেটে যেতে পারে এবং ঠোঁটের কোণে ঘা হতে পারে। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন।

ত্বকের অসুখঃ 
ত্বকের অসুখ যেমন একজিমা, অ্যালার্জি ইত্যাদির কারণেও ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে। এতে চিকিৎসার প্রয়োজন।

শুষ্ক ঠোঁটের যত্নঃ 
ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। ইমোলিয়েন্ট, পেট্রোলিয়াম জেলি, কোল্ডক্রিম ইত্যাদি ঠোঁটে ব্যবহার করা প্রয়োজন।

* লিপস্টিক ঠোঁটের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে লিপস্টিকের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। ভিটামিনসমৃদ্ধ ও অয়েলবেসড লিপস্টিক ঠোঁটের জন্য ভালো। তবে লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি হলে সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহার বন্ধ রাখুন।

* প্রয়োজনে যে টুথপেস্ট ব্যবহার করছেন তা বদলে ফেলুন। খেয়াল রাখবেন, সাদা রং এর টুথপেস্ট সাধারণত ঠোঁটের জন্য ভালো হয় ।

* সাবান ও ফেসওয়াশ ঠোঁটে লাগাবেন না।

* সিগারেট খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

* পেট্রোলিয়াম জেলি অথবা ভেসলিন ব্যবহার করতে পারেন। যতসময় বাড়িতে থাকবেন ঠোঁটে ভেসলিন লাগাবেন। এছাড়া সূর্যমুখী তেল ঠোঁটের জন্য খুব ভালো। এটা দিনে কয়েকবার ব্যবহার করতে পারেন। রাতে ভেসলিন লাগাতে ভুলবেন না।

* ঠোঁট কামড়াবেন না বা বারবার জিভ দিয়ে ভেজাবেন না।

* ঠোঁটের মেক-আপ তুলার জন্য তুলোয় ভেসলিন লাগিয়ে আলতো ঘসে তুলবেন। কখনও লিপস্টিক লাগানো অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না।

* ভিটামিন, প্রচুর সবুজ শাক-সবজি ও ফল খাবেন।

* বিশেষ সমস্যা হলে অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন।

লিখেছেন ডা. ওয়ানাইজা

Post a Comment

 
Top