হৃদরোগ এড়াতে ডাঃ দেবি শেঠির কিছু চমৎকার পরামর্শ:

দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল।




প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?
দেবি শেঠি: ১. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
প্রশ্ন: দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল?
দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমার রোগী ছিলেন।
প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে?
দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।
প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি?
দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার।
প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খারাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?
দেবি শেঠি: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
দেবি শেঠি: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি?
দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
দেবি শেঠি: যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?
দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।
প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে?
দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।
প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
দেবি শেঠি: বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়?
দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি?
দেবি শেঠি: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।
জিকা (Zika virus) ভাইরাসঃ এক নজরে 

# ইন্টারনেটে প্রচারিত ভিডিও চিত্রের উৎস থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহা-পরিচালকের বিবৃতির মাধ্যমে জানা যায় যে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের ২৪টি দেশে এক নব-উদ্ভূত ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যার নাম জিকা (Zika virus) ভাইরাস ।



# নব-উদ্ভূত ভাইরাসটি ডেঙ্গুর মতই একই পরিবার ভুক্ত এবং এডিশ প্রজাতির মশার কামড়ে ছড়ায়।

# উগাণ্ডাতে “জিকা“ নামের এক বনের বানর ও এডিশ প্রজাতির মশার শরীরে ১৯৪৭ সালে ভাইরাসটি প্রথম সনাক্ত হয়েছিল বলে বনটির নামেই এর নাম জিকা ভাইরাস রাখা হয়েছে।

# জিকা ভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ ও লক্ষণ হিসাবে  মৃদু মাত্রায় জ্বর, শরীর ও জোড়ায় জোড়ায় ব্যথা, চোখ উঠলে যেরকম লাল হয়ে যায় সেরকম চোখ লাল, দুর্বল অনুভূতি এবং ত্বক বা চামড়ায়  ছোট ছোট  লাল লাল গুটি কিংবা ফুস্কুরি উঠে বলে জানা যায়।

# এই ভাইরাসের কারণে কোন গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ যেমনঃ মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, রক্তনালী আক্রান্ত হয়না বলে মৃত্যু ঝুকি নেই।

# বিগত ৬০ বছরের পর্যবেক্ষণে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের ফলে রক্তক্ষরণ হওয়ার প্রমাণ নেই।

# বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এ ভাইরাস মানুষ, এডিশ মশা, বানর বা অন্য কোন প্রাণীর দেহে সনাক্ত হয়নি।

# বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধি ২০০৫ এর নির্দেশনা অনুযায়ী ভাইরাসটি সনাক্ত করার জন্য এডিশ মশার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে যা পরীক্ষা করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত ল্যাবরেটরিতে অনতিবিলম্বে প্রেরণ করা হবে।



# এডিশ মশায় ভাইরাস পাওয়া গেলে মানুষের মধ্যে তা সনাক্তের পদক্ষেপ নেওয়া হবে

# অক্টোবর ২০১৫ থেকে জানুয়ারী ২০১৬ এর মধ্যে ব্রাজিলে ৩৫০০ শিশু তুলনামুলকভাবে ছোট মাথা বা মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে, যার কারণ হিসেবে গর্ভকালে মায়েদের জিকা ভাইরাস সংক্রমণকে দ্বায়ী মনে করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

# ফরাসির পলিনেশিয়া অঞ্চলে জিকা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে গুইলেন-বারি সিনড্রম (Guillain-Barre Syndrome) নামে স্নায়ু রোগ হওয়ার সম্ভবনা প্রমাণ করার গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

# ইন্টারনেটে প্রাপ্ত তথ্য বা ভিডিও চিত্র যা টেলিভিশন মাধ্যমে দেখানো হচ্ছে তা বাংলাদেশের কোন গবেষণা বা পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক নয়।



# অনেকেই সংবাদ মাধ্যমে বিশেষজ্ঞের অভিমত হিসেবে পরিপূর্ণ ভাবেই তার নিজ দায়িত্বে অযৌক্তিক বা অনুমান নির্ভর কথা বার্তা বলছেন যা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির জন্ম দিচ্ছে।

# বাংলাদেশে দ্রুত গতিতে জিকা ভাইরাস বিস্তার হওয়ার সম্ভবনা বিজ্ঞান সম্মত ভাবেই খুবই ক্ষীণ। তাই প্রিয় দেশবাসীকে এ ব্যাপারে আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।


জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিচিতি (Know about 250 Beded General Hospital Jamalpur)

ভৌগোলিক অবস্থানঃ- জামালপুর শহরের উত্তর প্রান্তে, হযরত শাহ জামাল (রাঃ) এর মাজারের সন্নিকটে এবং ব্রহ্মপুত্র নদ সংলগ্ন ৮.১০ এলাকা জুড়ে একটি নয়নাভিরাম ও মনোরম পরিবেশে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালটি অবস্থিত।

প্রেক্ষাপটঃ- ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহকুমা স্থাপিত হয়। ১৮৬৮ সালে এ এলাকার মানুষের সুচিকিৎসার জন্য জামালপুর হাসপাতালটি স্থাপিত হয়। অতঃপর ১৮৬৮ সালের ১লা এপ্রিল জামালপুর পৌরসভা স্থাপিত হয় এবং ১৯৭৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর জামালপুর মহকুমাকে জেলা ঘোষনা করা হয়।

১৮৬৮ সালে জামালপুর হাসপাতালটি কে, কিভাবে, কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন তার কোন সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে কেদার রায় মজুমদার লিখিত বৃহত্তর ময়মনসিংহের ইতিহাস ও ময়মনসিংহের বিবরণী বইতে লেখা রয়েছে জামালপুর হাসপাতালের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে ময়মনসিংহ জেলা বোর্ড থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হতো। ঐ সময় হাসপাতালটি বর্তমান জামালপুর পৌরসভার আঙ্গিনায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমান পৌরসভার পাবলিক হলটি ছিল মূল হাসপাতাল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় ১৮৬৮ ইং সালে স্থাপিত এই হাসপাতালটি হতে আহত বা সৈন্যদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু আহত ও রুগ্ন সৈন্যদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় জামালপুর খেলার মাঠে বিরাট হল রুম বিশিষ্ট একটি Auxiliary Hospital তৈরী করে। সেখান থেকে আহত ও রুগ্ন সৈন্যদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও চিকিৎসা সেবা পেত। ১৮৬৮ ইং সালে স্থাপিত এই হাসপাতালটি ১৯৪৪ ইং সালে সরকারী করা হয় এবং ৬ শয্যা থেকে ২৫ শয্যায় উন্নিত করা হয়।

পরে ১৯৫৬ ইং সালে হাসপাতালের রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানের সংকুলান দেখা দিলে তৎকালীন পাক সরকার ২৫ শয্যার হাসপাতালটিকে বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত করেন। পরবর্তীতে হাসপাতালটি ১৯৭৯ ইং সালে ৫০ শয্যায় এবং ১৯৮৪ ইং সালে ১০০ শয্যায় রুপান্তরিত করা হয়। উল্লেখ্য যে, জামালপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নতি করণ শীর্ষক প্রকল্প শুরু হয় ১৯৯৫ ইং সালে। বর্তমানে এটি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, জামালপুর নামে পরিচিতি ।

বর্ষাঋতুতে শিশুদের জন্য করণীয় (Child care in rainy season )

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এদেশের প্রকৃতিতে লাগে পরিবর্তনের ছোঁয়া। এই পরিবর্তিত পরিবেশে মানব শিশুও যেন সুস্থ থাকে, সেটাই আমাদের কাম্য। আমাদের ছোট শিশুদের চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া সবই সঠিকভাবে যেন হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। এখন বর্ষাকাল। বর্ষা মানেই আবহাওয়ায় জলীয়বাষ্প বেশি। এই আবহাওয়ায় কিছু ভাইরাস সহজেই দুর্বল ও ছোট শিশুদের আক্রমণ করে। এজন্য এই আবহাওয়ায় শিশুদের যত্নে বেশি সচেতন হতে হয়। আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, তাদের প্রায় সকলেরই বাসা অতি ঘনবসতিপূর্ণ। ঘন ঘন বাসা মানেই বাতাস চলা চলে অপ্রতুলতা। বাসার চতুর্দিকে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হয়। যত বেশি বাতাস চলাচল করে তত বেশি পরিবেশ ভালো থাকে। ঘরে রোগজীবাণু কম হয়। ঘনবসতি এলাকায় দ্রুত ভাইরাস সংক্রমিত হয় এবং একজন অসুস্থ্য হলে অপরজনের অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। ছোট শিশুদের প্রচুর আলো-বাতাসপূর্ণ ঘরে রাখতে হবে। পরিবারে বড়দের কেউ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ছোট শিশুদের তার থেকে দূরে রাখতে হবে।


ছোট শিশুদের প্রতিদিন প্রয়োজনীয় গোসল যাতে দেওয়া হয়, সেটা নজর রাখতে হবে। যেহেতু আবহাওয়ার আদ্রতা বেশি, সেহেতু কাপড় শুকনো রাখার ব্যপারে সচেষ্ট হতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কাপড় না ভেজানো ভালো। শিশুদের গোসলের আগে তেল মালিশ করা পরিহার করতে হবে। সব সময় পরিষ্কার কুসুম গরম পানি (পানি অবশ্য সিদ্ধ করা হতে হবে) দিয়ে গোসল করাতে হবে।

ছোট শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সে জন্য বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের অবশ্যই বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। এছাড়া একটু বড় শিশুদের ( ছয় মাসের বড় ) বারবার সবজি, খিচুড়ি, মাছ ও গোশত খেতে দিতে হবে। রঙিন সবজি আর ফলের মধ্যে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল থাকে। তাই প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় সবজি ও ফলমূল থাকতে হবে। বারবার অনেক সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়ালে শিশু অধিক পুষ্টি পাবে। বড়দের বেলায় ঘরের তৈরী খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি (বিশুদ্ধ) পানি পান করতে দিতে হবে।

এখন শিশুদের জ্বর ও নাক দিয়ে পানি ঝরা- এই লক্ষণের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ লক্ষণগুলো ভাইরাসজনিত রোগের লক্ষণ। বাসায় বড়রা যদি আক্রান্ত হয় তবে শিশুদের তাদের থেকে দূরে রাখতে হবে। বারবার বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। প্রয়োজনে নাকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। শুষ্ক ও পরিষ্কার কাপড় পরাতে হবে। ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। যদি পাতলা পায়খানা হয়, তবে খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। শিশুদের অবশ্যই পরিষ্কার হাতে খাওয়াতে হবে।

বাংলাদেশের এই ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের মায়েরা যেন তাদের শিশুদের যত্ন নিতে পারেন, সে জন্য মায়েরাও কিছু কিছু তথ্য নিজেরা জেনে নেবেন। অন্যথায় সাধারণ সর্দিকাশি নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাবে ভিড় বাড়িয়ে দেয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা। সর্দিকাশিতে আক্রান্ত হলে নরম কাপড় দিয়ে নাক মুছে দেয়া, প্রয়োজনে Normal Saline drop দিয়ে নাকে আদ্রতা ধরে রাখতে হবে।

এ ধরনের সর্দিকাশিতে কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বড় শিশুদের বেলায় লেবু চা, আদার চা, গরম পানি লবণ দিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে, তাতে শিশুর ঠান্ডার কিছুটা উপশম হবে। যদি কাশি ঘন ঘন লেগে থাকে তবেই কেবল শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শের প্রয়োজন পড়ে।


ডাঃ নাদিরা আফরোজ
      শিশুবিশেষজ্ঞ
ইবনে সিনা হেলথ ম্যাগাজিন হতে সংগৃহিত।
গর্ভপাত, কারণ, গর্ভপাত নির্ণয়, লক্ষণ, গর্ভপাতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Abortion/miscarriage, Causes, Diagnosis, Symptoms, and Homeopathy treatment):

গর্ভপাত (Abortion/miscarriage):
ইংরেজি Abortion শব্দটি ল্যাটিন শব্দ থেকে এসেছে। যার অর্থ গর্ভপাত, অকালে গর্ভত্যাগ, ভ্রূণ গর্ভাবস্থার ২৮তম সপ্তাহের আগেই অর্থাৎ একটি টেকসই পরিপক্ক পর্যায়ে পৌছানোর আগেই গর্ভপাত। একটি গর্ভপাত গর্ভাবস্থার বিনষ্টকরণের হয়। এটা স্বতঃস্ফূর্ত হতে পারে বা একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট ধরনের ঔষধ ব্যবহারের কারণেও হতে পারে, কিন্তু গর্ভপাত শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, যদি এটি কোন নির্দিষ্ট কারণে হয় (Induced abortion) । অনিরাপদ গর্ভপাত প্রায় সব দেশে বিভিন্ন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে এটি বৈধ, যদিও মাতৃমৃত্যু ও রোগ গর্ভপাত প্রধান একটি কারণ।



গর্ভপাতের কারণসমূহঃ
গর্ভপাতের দুটি প্রধান কারণ হলো ভ্রূণ এবং মাতৃ সমস্যা। ভ্রূণ সংক্রান্ত সমস্যার প্রধাণ কারণ হলো ভ্রূণের জেনেটিক গঠণ। গর্ভাবস্থার প্রথম তিনমাসের মধ্যে গর্ভপাতের অধিকাংশ কারণ হলো ভ্রূণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, যা ক্রোমোজোম অস্বাভাবিকতা বা টেরাটোজেনিক (teratogenic) ফ্যাক্টরের কারণে হয়।

প্রতিরোধমূলক ফ্যাক্টরও গর্ভপাতের কারণ হতে পারে। তাড়াতাড়ি গর্ভপাতের আরেকটি সাধারণ কারণ হলো জরায়ুতে ভ্রণের রোপণে (implantation) অস্বাভাবিকতা। প্ল্যাসেন্টায় রক্ত সঞ্চালনের ব্যত্যয় ঘটলে পুষ্টিহীন ভ্রূণ তৈরী করে এবং ভ্রণ রোপনে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়, যাতে গর্ভপাত হতে পারে।

ডেসিডুয়াস ভেসিলাস (deciduas basalis) নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিম্বাশয়ের কর্পাস লিউটিয়াম (corpus luteum) যথেষ্ট প্রোজেসটেরন (progesterone) উৎপাদনে ব্যর্থ হলেও গর্ভপাত হতে পারে।

সংক্রমণের কারণে ভ্রূণ বৃদ্ধির ব্যর্থতাসহ গর্ভপাত ঘটাতে পারে। রুবেলা, সিফিলিস, এবং পলিও এর মত সংক্রমণ নির্দ্ধিধায় গর্ভফুল বা প্ল্যাসেন্টা ক্ষতি করে এবং জটিলতা তৈরী করতে পারে।

আইসোট্রেটিনন(Isotretinoin) এর মত টেরাটোজেনিক (Teratogenic) ওষুধের কারণেও গর্ভপাত হতে পারে।

অন্যান্য কারণগুলোর মুধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্তঃ
* বয়স ৪২ বছরের উপর
* গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত ধূমপান
* গর্ভাবস্থায় অ্যালকোহল ভোজন
* কিডনি রোগের মত গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা


গর্ভপাত নির্ণয়ঃ
প্রাথমিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রধানত ডাক্তারী ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত।

অন্যান্য পরীক্ষার মধ্যে অন্তর্ভুক্তঃ
* আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান - গর্ভের ছবি পেতে সাহায্য করে।
* শ্রোণীচক্র পরীক্ষা - রক্তপাতের উৎস নির্ণয় করতে সাহায্য করে।
* প্রস্রাব এবং রক্ত ​​পরীক্ষা - বিটা হিউম্যান কোরিওনিক গুনাডোট্রোফিন এবং প্রজেস্টেরন হরমোন মূল্যায়নে সহায়তা করে, যা গর্ভাবস্থা সঙ্গে সম্পর্কিত।

গর্ভপাত লক্ষণঃ
গর্ভপাত লক্ষণ প্রধানত পেটে মুচড়ানো ব্যথা এবং হালকা, মধ্য, অথবা গুরুতর যোনি হতে রক্তপাত হতে পারে, টিস্যুসহ জমাট বাঁধা বা দলা বাঁধা মত বেরিয়ে আসতে পারে।

গর্ভপাতের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতির একটি হলো হোমিওপ্যাথি। স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত তথ্যের মাধ্যমে ওষুধ নির্বাচন করে খুব সহজেই রোগারোগ্য করা সম্ভব। এই পদ্ধতি শুধু রোগ আরোগ্যই করে তা নয়, সাথে এর রোগের অন্তর্নিহিত কারণও দূর করে।গর্ভপাত চিকিৎসার জন্য রোগীকে অবশ্যই  যোগ্যতাসম্পন্ন ও রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। নারীর গর্ভপাত চিকিৎসার জন্য সহায়ক ওষুধ নিম্নরুপঃ

Aconite Nap. - ভয় এবং উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট গর্ভপাতের ঝুঁকিতে কার্যকরী।

Apis Mel. - গর্ভাবস্থার ৩য় মাসের সময় গর্ভপাতের ঝুঁকিতে কার্যকরী।

Arnica Montana - দুর্ঘটনা জনিত কারণে গর্ভপাতের ঝুঁকিতে কার্যকরী।

Aletris Far. - দুর্বলতা এবং রক্তাল্পতা কারণে স্বভাবগত গর্ভপাতের ঝুঁকিতে কার্যকরী।

Chamomilla - মানসিক উত্তেজনার কারণে গর্ভপাতের ঝুঁকিতে কার্যকরী।

Baptesia - কম জ্বর, মানসিক বিষণ্নতা, শকের ফলে গর্ভপাতে ঝুঁকি।

Sabina - গাঢ় লাল রক্ত ​​রক্তক্ষরণ, প্রত্যেক দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাসে অভ্যাসগত গর্ভপাত ক্ষেত্রে, পিছনে এবং যৌনাঙ্গ সামান্য ব্যথায় চমৎকার ওষুধ।

Sepia - গর্ভাবস্থার পঞ্চম থেকে সপ্তম মাসের সময় গর্ভপাত।

Syphilinum - সিফিলিসের কারণে গর্ভপাত।

Caulophyllum - জরায়ুর দুর্বলতার কারণে অভ্যাসগত গর্ভপাত।

Crotolus Hor. - জমাটহীন কালো রক্তপাত, পচনশীল রোগ বা রক্তদূষণের কারণে গর্ভপাত।

Thuja - গনোরিয়া রোগের ইতিহাস আছে এমন নারীর গর্ভপাত প্রবণতা।

Thyreoidinum - মূল যান্ত্রিক কারণ না থাকলে অকাল গর্ভপাত প্রবণতা। নারী থাইরয়েড কর্মহীনতার কারণে গর্ভপাত প্রবণতা থাকলে তা প্রতিরোধ করে, এটা জরায়ু থেকে ধীর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

Trillium Pend. - গর্ভপাতে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

Tuberculinum - যক্ষার কারণে গর্ভপাত।

Pulsatilla - ভীরু, শীতকাতর, পিপাসাহীন নারী, উত্তেজনাপূর্ণ গর্ভপাতের জন্য একটি চমৎকার হোমিওপ্যাথি ওষুধ।

Gelsemium - মানসিক উত্তেজনার কারণে গর্ভপাত, ব্যথা পেট থেকে উর্ধ্বগামী হয় এবং অবশেষে পিছনে স্থির হয়।

Thlaspi - খুব বেশি রক্তপাত জনিত কারণে গর্ভপাত।

Ipecauc - পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাবসহ বরাবর উজ্জ্বল লাল রক্ত ​প্রবাহ থাকলে এই ওষুধ খুবই কার্যকরী।

Ferrum met - পাণ্ডু নারীদের গর্ভপাত, সঙ্গে মাসিক বন্ধ এবং সাদা স্রাব।

Calcaria Carb - রক্তাধিক্য সংক্রান্ত নারীর সাদা স্রাব, সঙ্গে দ্রুত মাসিক হওয়া (সময়ের আগেই)।

Cimicifuga - গর্ভাবস্থার শেষের দিকের অভ্যাসগত গর্ভপাত। গর্ভপাত প্রতিরোধে এটি একটি চমৎকার ওষুধ।

টনসিল প্রদাহ, কারণ, লক্ষণ, জটিলতা, এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ( Tonsillitis, Causes, Symptoms, Complications, and Homeopathy treatment )

টনসিল হচ্ছে দুটি লিম্ফ নোড যা মুখের পিছনে এবং গলার উপর দিকে অবস্থিত । এর কাজ হলো রোগ প্রতিরোধ করা। এরা ব্যকটেরিয়া ও অন্যান্য জীবানুকে বের করে দিয়ে দেহকে সক্রমণের হাত থেকে প্রতিরোধ করে।

কারণঃ
যথারীতি ব্যকটেরিয়া (স্ট্রেপটোকক্কাস) অথবা ভাইরাস।



ঝুঁকিসমূহঃ
* ডে-কেয়ার সেন্টারের ছোট ছেলেমেয়েরা এবং শিক্ষক উভয় আক্রান্ত হয়
* জনাকীর্ণ স্থানে বসবাস, কাজ, এবং অবস্থান করলে
* ধূমপান
* ডায়াবেটিস এর মত দীর্ঘস্থায়ী অসুখ থাকলে

লক্ষণঃ
সাধারণ লক্ষণ হতে পারেঃ
* গিলতে কষ্ট হয়
* কানে ব্যথা
* জ্বর এবং শীত শীত
* মাথা ব্যথা
* গলায় ক্ষত, যা ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে
* চোঁয়াল এবং গলায় স্পর্শকাতরতা
* গলার দুই পাশের গ্রন্থি বা লিম্ফনোড বড় হয়ে যাওয়া
* গলা সাদা বা হলুদ দাগ থাকতে পারে
* শিশুদের মধ্যে ক্ষিদে না থাকা দেখা দিতে পারে
অন্যান্য সমস্যা বা লক্ষণ দেখা দিতে পারেঃ
* নিশ্বাস নিতে সমস্যা, যদি টনসিল খুব বড় হলে
* খাবার খেতে বা পান করতে সমস্যা



টনসিল প্রদাহের জটিলতাঃ
* দীর্ঘস্থায়ী টনসিল প্রদাহ
* দীর্ঘস্থায়ী উপরের শ্বাসনালী বাধা ঘুমের মধ্যে শ্বাস কষ্ট বা ঘুমের ব্যঘাত ঘটাতে পারে
* নিদ্রাহীনতা বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
* খেতে বা গিলতে সমস্যা
* কথা বার্তায় অস্বাভাবিকতা
* কানের প্রদাহ
* হার্টের কপাটিকার রোগ
* ফোঁড়া
* গ্লোমেরুনেফ্রাইটিস বা কিডনি প্রদাহ
* ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস, এছাড়াও স্কারলেট জ্বর, বাতজ্বর, এবং হৃদরোগও হতে পারে ।

টনসিল প্রদাহ নির্ণয়ঃ
* গলা কালচার করলে সংক্রমনকারী জীবাণু সম্পর্কে জানা পারে।
* CBC তে সাধারণত শ্বেত রক্ত কণিকা বাড়া প্রকাশ পায়।
* বায়োপসি করে ফোড়া থেকে সেলুলিটিস পার্থক্য করা যায়।

টনসিল প্রদাহের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিবিসি তথ্য মতে, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সম্পূর্ণ লক্ষণ সংগ্রহের মাধ্যমে, স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন করে অবশ্যই টনসিল প্রদাহ আরোগ্য করা সম্ভব। সঠিক চিকিৎসার জন্য রোগীর অবশ্যই একজন যোগ্য (বিএইচএমএস ডিগ্রী সম্পন্ন) ও দক্ষ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারে সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। টনসিল প্রদাহ আরোগ্য করে এমন কিছু সহায়ক হোমিওপ্যাথিক ওষুধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

Baryta Carb - প্রত্যেকবার ঠান্ডার পর টনসিল প্রদাহ হয়; গিলতে গেলে গলায় অস্বস্থি অনুভব হয়। কঠিন বস্তু গ্রাস করার সময় এবং খালি গিলতে গেলে অনেক কষ্ট হয়, গলায় প্লাগের মত বেদনা অনুভূত হয়।

টনসিল পাকার ঝোঁক থাকে, বিশেষভাবে ডান টনসিল। টনসিল ধীর্ঘস্থায়ীভাবে শক্ত বা কঠিনভাবে থাকতে পারে।

Belladonna - টনসিল প্রদাহ, অংশবিশেষ উজ্জ্বল লাল থাকে। গিলার সময় মনে হয় গলা খুবই সরু হয়ে গেছে। রক্ত সঞ্চয়ের লক্ষণ। তরল খাবার খেতেই বেশী খারাপ অবস্থা হয়। ডান টনসিল সবচেয়ে আক্রান্ত হয়।

Alumen - টনসিল প্রদাহ হওয়ার প্রবণতা, গলা এবং গলা শ্লেষ্মা; কথা বলা এবং তরল খাবার গ্রহনের সময় গলা ক্ষত এবং শুষ্ক হয়; গলার উভয় পাশে খুবই শুষ্কতা অনুভব করে।

Hepar Sulph - শুনাতে সমস্যা সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী টনসিল; গলায় মাছের কাঁটা থাকার মত অনুভূতি; গলা সেলাই মত অনুভূতি, যা কান পর্যন্ত বিস্তৃত।

Calcaria Phos - মধ্যকর্ণের প্রদাহসহ দীর্ঘস্থায়ী টনসিল প্রদাহ; গলা ব্যাথা গিলার সময় অনেক বৃদ্ধি পায়।

Calcaria Carb - ভালভ বড় হয় এবং টনসিল প্রদাহ হয়; গিলার সময় মনে হয় গলা সংকুচিত হয়েছে। ব্যথা গলা থেকে কান পর্যন্ত বিস্তৃত।

Baryta Iod - টনসিল বড় হয়; দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্ধন এবং টনসিলের কঠিনীভাব তৈরী হয়; লিম্ফনোড বা লসিকানালী গ্রন্থি ফোলা, এটা প্রায়ই পুঁজ তৈরীতে বাধা দেয়।

Apis Mel - গিলতে সময় কাঁটাবিধামত ব্যথা জ্বালা; মুখ এবং গলায় শুষ্কতা; লাল এবং টনসিলে অনেক প্রদাহ; তাপ বা গরম পানীয়ে বাড়ে, ঠান্ডা বা ঠান্ডা পানীয়ে ভাল অনুভব করে।

Silicea - গভীর ক্ষত, এমনকি পচা ঘাঁ বা গ্যাংগ্রিন হয়; টনসিল ফুলে গলাধকরণে বাধা তৈরী করে; টনসিল প্রদাহ, গ্রন্থিতে পুঁজ তৈরী হয়, যা সহজে আরোগ্য হয় না; গলায় পিন থাকার মত অনুভূতি, যা গলা কাশি ঘটায়; গলার বাম পাশে বেশি ঘটে।

Lachesis - টনসিল প্রদাহের জন্য অনেক ভালো ওষুধ; টনসিলে পুঁজ তৈরী হয়; টনসিল ফোলে যায়, ডান পাশের প্রদাহ প্রবণতার সঙ্গে বাম পাশের টনসিলে অনেক বাড়ে; গলাধ:করণে অক্ষমতা, সজোরে দমবন্ধ হয়ে যায়।

Lac can - টনসিল প্রদাহ, ক্ষত বা কালশিটে খুবই উজ্জল জ্বলজ্বলে, গলার এতো কাছে চলে আসে যাতে গলা বন্ধ হয়ে যায়; পূঁজ তৈরী হয় ডানে থেকে বামের টনসিলে, বা এপাশ ওপাশ পরিবর্তন, বা উভয় টনসিল সমানভাবে প্রভাবিত; গোটা গলার পিছনের অংশ ফোলে যায়।

Psorinum - টনসিল প্রদাহ, সাব ম্যাক্সিলারী গ্রন্থি বা উপ চোয়াল গ্রন্থি ফোলে; গলা জ্বলে, মনে হয় গলা পুড়ে গেছে এমন অনুভূতি, লালা গিলতেও গেলেও ব্যাথা, ডান পাশের টনসিলে আলসার বা ক্ষত, কণ্ঠ জ্বলার সঙ্গে গভীরে অনেক ব্যথা।

হাইড্রোনেফ্রোসিস, কারণ, লক্ষণ, ডায়াগনোসিস, জটিলতা এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ( Hydronephrosis, Causes, Symptoms, Diagnosis, Complication and Homeopathy treatment )

কিডনি স্ফীতি বা প্রস্রাবের স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যর্থ হলে যে অবস্থাটা লক্ষ্য করা যায় সেটাই হলো হাইড্রোনেপ্রোসিস। সাধারণত এই স্ফীতি শুধুমাত্র একটি কিডনিকে প্রভাবিত করে, কিন্তু উভয়টিই আক্রান্ত হতে পারে। হাইড্রোনেফ্রোসিসকে (Hydronephrosis) সরাসরি রোগ না বলে একটা Structural Condition বলা যেতে পারে। এটা প্রস্রাবের নালীর মধ্যে একটি প্রতিবন্ধকতার ফলাফল।



কিডনির সাথে মূত্রথলির সংযোগকারী নালী রয়েছে যাকে ইউরেটার বা মূত্রনালী বলে। অনেকে আবার এটাকে সরাসরি কিডনি নালীও বলে থাকেন। এই নালী ২৫ সেমি-এর মতো লম্বা। এর তিনটি জায়গায় একটু চাপা রয়েছে। প্রথমটি হলো কিডনির পেলভিসের সাথে ইউরেটারের সংযোগ স্থান, দ্বিতীয়টা যখন পেলভিক সেতু পার করে এবং তৃতীয়টা যখন মূত্রনালী প্রস্রাবের থলিতে প্রবেশ করে। কোনো কারণে যদি কিডনি নালী সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় তখন এর ফলে কিডনির ভিতরে প্রস্রাব জমা হয়ে কিডনি আকারে বড়/স্ফীত হয়ে যায় যাকে বলা হয় হাইড্রোনেফ্রোসিস।

হাইড্রোনেফ্রোসিসের কারণ :-
বিভিন্ন কারণে হতে পারে যেমন -
* পেল্ভি-ইউটেরিক সংযোগ স্থানে প্রতিবন্ধকতা
* কিডনিতে পাথর হলে
* কিডনিতে সিস্ট বা টিউমার হলে
* নেফ্রনে ময়লা জমে প্রতিবন্ধকতা (Obstruction) সৃষ্টি হয়
* জন্মগত ভাবে বা আঘাত জনিত কারণে মূত্রনালী এর সংকীর্ণতা

হাইড্রোনেফ্রোসিসের লক্ষণ :-
উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলি হলো :-
* বমি বমি ভাব এবং বমি
* পেট বা পার্শ্ব ব্যথা
* প্রস্রাব করার সময় ব্যথা / জ্বালাপোড়া
* ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
* বেগ পাওয়ার সাথে সাথেই প্রস্রাব করতে হয়
* জ্বর জ্বর ভাব



রোগ নির্ণয়ঃ
হাইড্রোনেফ্রসিস ইমেজিং পরীক্ষায় পাওয়া যায়ঃ
* পেটের এমআরআই (Abdominal MRI)
* পেটের বা কিডনীর সিটি স্ক্যান
* ইন্ট্রাভেনাস পায়েলোগ্রাম (IVP)
* আইসোটোপ রেনোগ্রাফি (কিডনী স্ক্যান)
* কিডনী বা পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাম

সম্ভাব্য জটিলতাঃ
হাইড্রোনেফ্রোসিস সঠিক ভাবে চিকিৎসা না করা হলে, কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা নষ্ট হতে পারে। অন্য কিডনি সাধারণত স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে, কিডনি ফেইলোর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। যাই হোক, রোগীর শুধুমাত্র একটি কিডনি কার্যকরী থাকলে, একসমসয় অন্য কিডনি ফেইলোর ঘটবেই।

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
কারণের উপর ভিত্তি করেই এটার চিকিৎসা নির্ভর করবে। হোমিওপ্যাথি একটি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি, তাই সম্পূর্ণ লক্ষণ সংগ্রহ করে সঠিক ওষুধ প্রয়োগ করে হাইড্রোনেফ্রসিস বা স্ফিত কিডনি আরোগ্য করা সম্ভব। নিম্নে হাইড্রোনেফ্রসিস চিকিৎসা সহায়ক কয়েকটি হোমিওপ্যাথিক ওষুধের নাম উল্লেখ করা হলোঃ
এপিস মেল, আর্সেনিক এল্ব, বার্বারিস ভুল, ক্যান্থারিস, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, হেলেবুরাস, ক্যালি মিউর, থুজা, টেরিবিন্থ, ভেসিকেরিয়া, মার্ক কর, হাইড্রাঞ্জিয়, পেরেইরা ভ্রাবা, সেরাম ইগুইলি(Eel Serum), জিঞ্জিবার অফিসিনালিস এবং আরোও অন্যান্য কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষধ।


পিত্তথলির পাথর, কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয়, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা এবং ব্যবস্থাপনা ( Gallstones, Causes, Symptoms, Diagnosis, Homeopathy treatment and Management )

পিত্তথলির পাথরঃ
লিভারের নিচে এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল নালীতে অবস্থিত একটি আনুষঙ্গিক অঙ্গ হলো গলব্লাডার বা পিত্তথলি।  এটি পিত্ত লবণ, ইলেক্ট্রোলাইট, বিলিরুবিন, কলেস্টেরল, এবং অন্যান্য চর্বি সঞ্চয় করে রাখে। পিত্তরস বিশেষত বিলিরুবিন মাধ্যমে ক্ষুদ্রান্ত্রে চর্বি হজমে এবং বর্জ্য পদার্থ সরিয়ে দিতে সাহায্য করে। এটা লিভারের পিত্তনালী থেকে যৌথ পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস ডিওডেনামে প্রেরণ করা হয়।

পিত্তথলিতে পাথর হলো- পিত্তাসয়ে কলেস্টেরল, পিত্ত লবণ ও বিলিরুবিনের সংমিশ্রনে গঠিত শক্ত সঞ্চিত পদার্থ। পিত্তথলিতে পাথরের মেডিকেল টার্ম হলো কলেলিথিয়াসিস। গলব্লাডার বা পিত্তথলি অপসারণের জন্য সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো কলেলিথিয়াসিস।



পিত্ত পাথর হওয়ার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলিঃ
বয়স - বেশি বয়স (বিশেষত ৬৫ বছরের পরে)।
পথ্য - পাশ্চাত্য খাদ্য উচ্চ শক্তি, উচ্চ চর্বি, উচ্চ মিহি কার্বোহাইড্রেট, কম ফাইবার যুক্ত খাবার খাওয়া।
এনজাইম অপূর্ণতা - যেমন, সিকল সেল এনিমিয়া এবং কিছু অন্যান্য জেনেটিক পরিবর্তন।
লিঙ্গ - স্ত্রীলিঙ্গ
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা - যেমন গর্ভাবস্থা বা ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে।
ঔষধ - ইস্ট্রজেন, ইনসুলিন, জন্মবিরতিকরণ বড়ি বা পিল, কোলেস্টাইরামিন।
স্থূলতা - বিশেষ করে সর্বোচ্চ তাহলে BMI (বডি মাস ইন্ডেক্স) থাকলে।
ওজন হ্রাস - দ্রুত ওজন হ্রাস, রোযা, বা ক্র্যাশ খাবার খেলে।
পারিবারিক ইতিহাস - পরিবার ইতিহাসে পিত্তপাথর থাকলে
নারী পুরুষে তারতম্য-  পুরুষদের চেয়ে নারীদের পিত্তাসয়ের পাথর হওয়ার সম্ভাবণা দ্বিগুণ

পিত্তথলির পাথরের উপসর্গঃ
বেশীরভাগ মানুষেরই পিত্তথলিতে পাথরের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। যে লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে তা হল:
উপরের ডান পেটে ব্যথা যা পিঠের দিকে ছড়িয়ে ডান কাঁধের পাখনার নিচে হতে পারে। উচ্চ চর্বি যুক্ত খাবার খেলেই পেট ফোলে যাবার অনুভূতি হবে। এটি জন্ডিস ঘটাতে পারে - হলুদ বর্ণের ত্বক এবং চোখের স্ক্লেরা সাদা, এবং সংক্রমণ।

পিত্তপাথরের জটিলতাঃ
পিত্তাসয়ের পাথরের জটিলতা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারেঃ
* গলব্লাডার বা পিত্তথলিতে প্রদাহ (cholecystitis)
* জন্ডিস সঙ্গে সাধারণ পিত্তনালীতে প্রতিবন্ধকতা
* অগ্ন্যাশয়ের নালীর প্রতিবন্ধকতা এবং অগ্ন্যাশয় প্রদাহ (প্যানক্রিয়েটাইটিস)
* গলব্লাডার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়বে

রোগ নির্ণয়ঃ
পিত্তাসয়ের পাথর নির্ণয়ের সবচেয়ে প্রচলিত পরীক্ষা হলো আল্ট্রাসনোগ্রাম এবং কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি (সিটি)। ইকোগ্রাফি এবং এক্সরেও পিত্তথলিতে পাথর নির্ণয়ে সাহায্য করে।

পিত্তথলির পাথর নিরাময়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি রোগ নিরাময়ের একটি  আধুনিক এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু পিত্তথলির পাথর চিকিৎসাই নয়, এর অন্তর্নিহিত কারণ (Internal Cause) ও স্বতন্ত্র প্রবণতা (Individualization) মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিৎসা জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন এবং রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। পিত্তথলির পাথর চিকিৎসার সহায়ক ঔষধগুলো নিম্নরুপঃ

বারবারিস ভুল, কার্ডোয়াস মেরিনাস, চায়না, কোলেস্টেরিনাম, কলোসিন্থ, লাইকোপোডিয়াম, ন্যাট্রাম সালফ, ভিরেট্রাম অ্যালবাম, ব্যাপ্টিসিয়া, ব্রায়োনিয়া, ক্যাল্কেরিয়া কার্ব, ক্যামোমিলা, চেলিডোনিয়াম, ডায়াস্কোরিয়া ভিলোসা, হাইড্রাস্টিস, ইপিকাক, আইরিস, ক্যালি বাই, ক্যালি কার্ব, ল্যাকেসিস, লিথিয়াম কার্ব, নাক্স ভম, ফসফরাস, সেপিয়া, এবং অন্যান্য ওষুধ।

নিম্নে কিছু ওষুধের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হলঃ
Calcarea carbonica- পারিবারিক ইতিহাসে পিত্তাসয়ের এবং কিডনি পাথর; মাত্রাতিরিক্ত ওজনের; উচ্চ কলেস্টেরল এবং ৩-গ্রাইসেরাইডস; ক্রনিক বা পুরাতন কোষ্ঠকাঠিন্য। কুঁড়ে এবং উদ্বিগ্ন।

Chelidonium- ব্যথা উপরের ডান পেটে হয় যা পিছনে ছড়িয়ে যায়, ব্যথা ডান কাধেঁর পাখনার নিচে হয়।

Lycopodium - পারিবারিক ইতিহাসে পিত্তাসয়ের এবং কিডনি পাথর; অন্যান্য ক্রনিক হজমজনিত সমস্যা - গ্যাস্ট্রিক, পাকস্থলীর ক্ষত, কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ কলেস্টেরল। সামান্য খাওয়ার পরেই পেট বেশি ফোলা উঠা বা পেট পূর্ণ হওয়া। লিভার জনিত ব্যথা বেশিরভাগ বিকালে ঘটে বিশেষ করে বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। খিটখিটে, অসঙ্গতি ঘৃণা করে কিন্তু তার রাগ চাঁপা দিয়ে রাখে।

Natrum sulphuricum - একাধিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা - পিত্তাসয়ের পাথর, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, হাঁপানি, COPD (ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ), স্থূলতা, হাড়ের জোড়াইয় রোগ, বিষণ্নতা। আবহাওয়া পরিবর্তন এবং আর্দ্রতায় মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীল।

Nux vomica - অম্বল বা বুকজ্বলা, বমি বমি ভাব, পেট ফোলে উঠা; সংকোচনশীল বা মোচড়ানো ব্যথা, আকস্মিক ব্যথা সঙ্গে পিত্তশূল; অতিরিক্ত মসলা সমৃদ্ধ খাবার ও পানীয় গ্রহন; অলস জীবনধারা; খিটখিটে এবং অধৈর্য্য।হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় পিত্তাসয়ের পাথর বিলিন হয়ে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এবং পিত্তপাথরে পুনরাবৃত্তিতে বাধা দেয়।



পিত্তথলির যত্নে করণীয় (Management):
* প্রতিদিন নিয়মিত প্রায় ২(দুই) লিটার পানি পান করুন,ফলে পুরো দেহে ঠিকভাবে রক্ত চলাচল করবে, যাতে পিত্তথলির সাথে সাথে পিত্তরসও ঠিকভাবে কাজ করবে।

* ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেসার, কিডনীর রোগ, শরীরের ওজন, রক্তে সংক্রমণের মাত্রা সর্বদা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। এই রোগগুলো বাড়লে পিত্তথলি সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে পারেনা।

* যে কোন প্রকার মাদকদ্রব্য, ধূমপান, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, তৈলাক্ত, মশলাযুক্ত খাবার মারাত্মক ক্ষতিকর।

* দীর্ঘ বছর ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণকারী বড়ি, গর্ভনিরোধক বড়ি বা যৌনবর্ধক ঔষধ, যে কোন প্রকারের হরমোন এর ঔষধ অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না।

* প্রচুর পরিমানে তিক্ত জাতীয় খাবার, শাক সবজি এবং আাঁশ জাতীয় খাদ্য অনেক উপকারী।

* অবশ্যই তৈল ও চর্বিযুক্ত খাদ্য ত্যাগ করা উচিত। খাবারগুলোর বাড়তি তৈলাক্ত অংশ পিত্ত থলিতে জমে। বছরের পর বছর বা দীর্ঘ সময় ধরে এইভাবে তৈলাক্ত বর্জ্য বা কোলস্টেরল জমতে থাকে যাতে পিত্তরস ঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। এই তরল পিত্তপদার্থগুলোই একসময় শক্ত পাথরে পরিণত হয়। যাতে হজমে ব্যাঘাতের দরুন পেটে ব্যথা হয়, এমনকি বুকেও ব্যথা হতে পারে।

* পিত্তথলিতে সংক্রমণে পুঁজ জমতে পারে। সংক্রমণে জ্বর জ্বর অনুভব, পেট ব্যথা, এবং বমিও হতে পারে। মাঝে মাঝে পেটের ডান পাশে ব্যথা অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

* দৈনিক কমপক্ষে একটি ফল খাওয়া উচিত। খাবারের তালিকায় অবশ্যই মৌসুমী ফল রাখুন।

* মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে হওয়া খাবার বা ওষুধ খাবেন না। এতে কিডনী ও লিভারের কার্যক্ষমতা দূর্বল হয়ে যায়, যা পুরো দেহের উপর প্রভাব পড়ে। গলব্লাডার বা পিত্তথলিও সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা।

* গর্ভবর্তী অবস্থায় অনেকেরই পিত্তপাথর হতে পারে। বংশগত (Hereditary) বা পারিবারিক ইতিহাস (Family history)  থাকলেও পাথর হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন বা খুব বেশি ওজন কমিয়ে ফেলেছেন বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন, তারাও পিত্তথলির পাথরে আক্রান্ত হতে পারেন।



অ্যাপেন্ডিসাইটিস, কারণ, লক্ষণ, চিহ্ন, রোগ নির্ণয় এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ( Appendicitis, causes, symptoms, sign, diagnosis and Homeopathic treatment ):

অ্যাপেন্ডিসাইটিস শব্দটি অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ অবস্থাকে বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, এটি টিস্যু দ্বারা তৈরী একটি ছোট টিউব যা বৃহদান্ত্রের শুরুতে সংযোগ অবস্থায় থাকে, সাধারণত পেটের নীচের অংশে ডানদিকে অর্থাৎ ডান ইলিয়াক ফসাতে থাকে। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল জরুরী পেটের সার্জারি।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হয় এমন পারিবারিক ইতিহাস আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে। এটি যদি সঠিক সময়ে সঠিকভাবে চিকিৎসা না হয়, তাহলে এতে খুব খারাপ জটিলতা হতে পারে।



অ্যাপেন্ডিসাইটিস কারণসমূহঃ
অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলো অ্যাপেন্ডিক্স এর প্রদাহ, এর মূল কারণ শ্লেষ্মা বা গাদ দ্বারা প্রতিবন্ধকতা তৈরী।

মূল কারণগুলিকে দুইটি ভাগে ভাগ করতে পারি যথা-
১) প্রতিবন্ধকতা তৈরীকারী উপাদান (Obostructive agents) ।
২) প্রদাহ তৈরীকারী জীবাণু (Infective agents) ।

১) প্রতিবন্ধকতা তৈরীকারী উপাদান (Obostructive agents):
বাহিরাগত উপাদানঃ 
* প্রাণী (যথা- ফিতা কৃমি, গোল কৃমি),
* শাক-সবজি (যথা- বীজ, অন্যান্য উপাদান)
* খনিজ (যথা- মল = সাধারণ কারণ)
* অন্ত্রের ভিতরের স্তরের অতি বৃদ্ধির কারণে প্রতিবন্ধকতা ।

২) প্রদাহ তৈরীকারী জীবাণু (Infective agents):
* প্রাথমিক সংক্রমণে লিম্ফের কোষ বৃদ্ধি ঘটে।
* সংক্রমণের দ্বিতীয় স্তরে অন্ত্রের দেওয়ালে চাপ তৈরী করে এবং ক্ষত তৈরী করে যাতে ব্যকটেরিয়া দেওয়াল অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে।
* অক্সিজেন নির্ভরশীল ব্যকটেরিয়া (Aerobic) এবং অক্সিজেন নির্ভরশীলহীন ব্যকটেরিয়া (Anaerobic) উভয়েই সংক্রমণের সাথে জড়িত (কলিফর্মস, এন্টেরোকক্কাই, ব্যকটেরইডস এবং অন্যান্য অন্ত্রের পরজীবী)

অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণগুলোঃ

অ্যাপেন্ডিসাইটিস প্রথমিক উপসর্গঃ
* ব্যথার ধরণ হলো মোচড়ানো অথবা টেনে ধরার মত শূলবেদনা (আসে এবং যায়)
* ক্ষুধাহীনতা বা ক্ষিদে না থাকা
* শক্ত মল বা কোষ্ঠকাঠিন্য

অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের পরবর্তী উপসর্গগুলো প্রধানত-
* ডান ইলিয়াক অঞ্চলের মধ্যে তীব্র ব্যথা (ডান তলপেটে), যা উপরে উঠাতে পারে বা নাভি থেকে নিচে নামতে পারে।
* বমি বমি ভাব
* বমি
* তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
* পালস রেট বৃদ্ধি পায়
* কখনও কখনও রোগীর ডায়রিয়া থাকতে পারে
* রোগীর ডান পা উপরের দিকে উচু করে বাধলে ব্যথা উন্নতি অনুভব করে, পা নিচের দিকে রাখলে ব্যথা বেশি অনুভব করে।


অ্যাপেন্ডিসাইটিসের বাহ্যিক লক্ষণ (Sign of Appendicitis):
কাশিতে স্পর্শকাতরতা - এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ, যা দ্বারা অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে ডান কিডনী পাথরের শূলবেদনা থেকে পার্থক্য করা যায়।

কপ'স সোয়াস পরীক্ষা (Cope’s psoas test) - সোয়াস মেজর পেশির উত্তেজনায় কোমরে ভাঁজ (flexion) তৈরী হয়, কোন ভাবে কোমর প্রসারিত (extension) করার প্রচেষ্টায় ব্যথা ঘটে।

কপ'স অবটিরাটর পরীক্ষা (Cope’s obturator test) - অবটিরাটর পেশী উত্তেজনা হয়, ভাঁজ এবং চিকিৎসা আবর্তন (medical rotation) ব্যথা ঘটায়।

স্পর্শকাতরতা এবং প্রতিক্ষেপণ স্পর্শকাতরতা (Tenderness and rebound tenderness) - এটি ম্যাক বার্নিস বিন্দুতে (Mc Burney’s point) উপস্থিত থাকে। প্রতিক্ষেপণ স্পর্শকাতরতা উদরের আবরকঝিল্লী আংশিক প্রদাহ কারণে হয়।



ধরে রাখা এবং অনমনীয়তা (Guarding and rigidity) - ডান ইলিয়াক ফসার মধ্যে এটি হয়।

রবিং লক্ষণ (Roving sign) - পেটের বাম ইলিয়াক অঞ্চলে স্পন্দন বা ধড়ফড়ানি, ডান ইলিয়াক অঞ্চলে ব্যথা তৈরী করে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসে ডিফারেনশিয়াল ডায়াগনোসিস (Differential diagnosis of appendicitis):

* প্যানক্রিয়াসের তীব্র প্রদাহ
* অন্ত্রের প্রদাহ
* Meckel এর উপস্থলিপ্রদাহ
* পিত্তথলির তীব্র
* ডান পার্শ্বস্থ কিডনী পাথরের শূলবেদনা
* টেস্টিস পুরোপুরি বাইরে বের না হলে
* সচ্ছিদ্র ডিওডেনামের ক্ষত

স্ত্রী দেহেঃ
* ডিম্বাশয়ে সিস্ট
* উভয় ফেলোপিয়ান টিউব ও ডিম্বাশয়ে প্রদাহ
* জরায়ুর বাইরের গর্ভ ফেটে গেলে
* মাসিকের সময় ডিম্ব ফলিকল ভাঙ্গন

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসাঃ
অ্যাপেন্ডেক্টমি (appendectomy) (এপেন্ডিক্স অপসারণ করে ফেলার জন্য একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি) মাধ্যমে এপেন্ডিক্স অপসারণের দ্বারা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসা করা হয় । এতে পেটের ডান পাশে নিচের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কর্তন করা হয়। এটি লেপারস্কোপির মাধ্যমে সম্পন্ন করা যেতে পারে, যাতে একটি ছোট ছিদ্র করে সমগ্র প্রক্রিয়াটি একটি ক্যামেরা দিয়ে দেখে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়।

প্রায়ই অস্ত্রোপচারের পূর্বে প্রদাহ কমাতে এবং অবশিষ্ট ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে এন্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ
হোমিওপ্যাথি ওষুধ সবচেয়ে জনপ্রিয় রোগ নিরাময়ের একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য অবস্থায় রোগীর ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসাই নয়, এর অন্তর্নিহিত কারণ ও স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায়ও সহায়তা করে। স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিৎসা জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন এবং রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসার সহায়ক ঔষধগুলো নিম্নরুপঃ



Belladonna - অ্যাপেন্ডিসাইটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে খুব ভাল কাজ করে, অন্যান্য লক্ষণের সাথে ঘামহীন অবস্থায় মাথা ব্যাথা এবং তাপমাত্রা বাড়তে থাকে; লক্ষণের কারণে রোগী অস্থির হয়ে পড়ে।

Bryonia Alba - অ্যাপেন্ডিসাইটিসের জন্য একটি অসাধারণ ঔষধ, রোগী নড়াচড়া করলে যন্ত্রনা/ব্যথা বেড়ে যায়, এবং সম্পূর্ণ বিশ্রাম বা বেদনাদায়ক পাশ শুয়ে থাকলে রোগীর যন্ত্রনা/ব্যথার উপশম হয়।

Lachesis - অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ব্যথায় সুনির্দিষ্ট ক্রিয়া আছে, এতে নামমাত্র স্পর্শ দ্বারাই রোগীর ব্যথা বেড়ে যায়।

Rhus Tox - এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ছুরি হিসেবে পরিচিত।

Sulphur - সম্পূর্ণ আরোগ্যের জন্য একট আন্তঃবর্তমান বর্তমান ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

Iris Tenax - অ্যাপেন্ডিসাইটিসের জন্য সুপরিচিত ওষুধ; ইলিও-সিকাল অঞ্চলের ব্যথা থাকে, যা চাপে অতিরিক্ত স্পর্শকাতর।

Dioscorea - সব সময় ব্যথা; পেট গ্যাস ভরা; ব্যথার ধরন টেনে ধরার মত; মোচড়ানো ব্যথা পিছনের দিকে বেঁকে গেলে ব্যথা কমে।

Colocynth - তীব্র কেটে ফেলার মত ব্যথা, মোচড়ানো ব্যথা; যা বদহজম দ্বারা বেড়ে যায় এবং উষ্ণতা, এবং চাপে উপশম হয়।

Arsenic album - পঁচনের সময় একটি চমৎকার ওষুধ। ডায়রিয়া; সুনির্দিষ্টভাবে অস্থিরতা এবং অবসাদগ্রস্থ বা দুর্বল থাকে।

Ignatia - শরীর গরম এবং অনমনীয়; অ্যাপেন্ডিক্স অঞ্চলের যন্ত্রণায় দাঁতে দাঁত ঘষে সাথে অস্ত্রপচারের ভয় থাকে; রোগী অত্যান্ত স্নায়বিক অনুভূতি সম্পন্ন, সঙ্গে অনেক দুর্বল অনুভব করে।

Mercurius - তীব্র আক্রমনে ভালো কাজ করে; ইলিও-সিকাল অঞ্চলে ফোলা শক্ত গরম এবং বেদনাদায়ক; অ্যাপেন্ডিক্স অঞ্চলে পিণ্ড অনুভব করে।

পেট ব্যথা কারণ, লক্ষণ, রোগ নির্ণয় এবং এর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ( Abdominal pains causes, symptoms, diagnosis and its Homeopathy treatment )::

পেট ব্যথা হলো নিম্ন বুক এবং শ্রোণীদেশের মধ্যে শরীরের অংশে ব্যথা সহ অস্বস্তিকর একটি অনুভূতি। পেটের গহ্বর পাকস্থলি, যকৃত, পিত্ত থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র, অগ্ন্যাশয়, কিডনি, সিকাম, এপেন্ডিক্স, মূত্রনালী, প্লীহা এবং পেটের পেশীর মত বিভিন্ন কাঠামো গঠিত । পুরো পেটকে ৯ টি অঞ্চলে বিভক্ত করা যায় ।





পেটের অঞ্চল অনুসারে বিভিন্ন অঙ্গের অবস্থানঃ
ডান হাইপোকন্ড্রিয়াম (Right Hypochondrium): লিভার, গলব্লাডার, ডান কিডনি, ক্ষুদ্রান্ত্র ।
বাম হাইপোকন্ড্রিয়াম (Left Hypochondrium): প্লীহা, কোলন, বাম কিডনি, অগ্ন্যাশয় ।
ইপিগ্যাস্ট্রিয়াম (Epigastrium): পেট, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, গ্রহণী (Duodenum), প্লীহা, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি ।
ডান লাম্বার অঞ্চল(Right Lumber Region): গলব্লাডার, লিভার, ডান কোলন ।
বাম লাম্বার অঞ্চল(Left Lumber Region): সাজানো কোলন, বাম কিডনি ।
নাভিসংক্রান্ত অঞ্চল (Umbilical Region): নাভী (Umbilicus), জেজুনাম (Jejunum), ইলিয়াম (Ileum), গ্রহণী (Duodenum) ।
ডান ইলিয়াক ফসা (Right Iliac Fossa): এপেন্ডিক্স (Appendix), সিকাম (Cecum) ।
বাম ইলিয়াক ফসা (Left Iliac Fossa): নিম্নগামী কোলন, সিগময়েড কোলন ।
উদরের মধ্যস্থলের অব্যবহিত নিম্নাংশ(Hypogastrium): মূত্রথলী, সিগময়েড কোলন, নারী জননাঙ্গ ।

কোন ব্যক্তি এই অঞ্চলে কোনো ব্যথা অনুভব করলে তাই পেট ব্যথা ।

পেট ব্যথার কারণ ও লক্ষণ (Causes and symptoms of abdomen):
পাকস্থলীর ক্ষত (Peptic ulcer) - পরিপাক নালীর মধ্যে অ্যাসিড বহনকারী অঞ্চলের কাছাকাছি শ্লৈস্মিক ঝিল্লীর ক্ষত, ব্যথা রুঢ়/তীক্ষ্ণভাবে জিফয়েড এবং নাভির মধ্যে ১ ইঞ্চি ব্যাস অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
পিত্ত থলির প্রদাহ (Cholecystitis) - পিত্ত থলি স্পর্শকাতরতা সঙ্গে এপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে ব্যথার আক্রমন।
অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার (Carcinoma of pancreas) - মধ্য পাকস্থলিতে ব্যথা, অবিচলিত এবং  মৃদু বা আক্রমনের বেগ আস্তে আস্তে বেড়ে পেটে তীব্র/শূলবেদনাযুক্ত ব্যথা ।
পাকস্থলির কার্সিনোমা (Carcinoma stomach) - পেট ব্যথার সঙ্গে দৈনিক অস্বস্তি ।
এপেন্ডিক্সে তীব্র প্রদাহ (Acute appendicitis) - পেটে অতিরিক্ত শূলবেদনাযুক্ত ব্যথা প্রথমে কেন্দ্রী অঞ্চলের অনুভূত এবং কয়েক ঘন্টা পর ব্যথা ডান অধস্তন অস্থিসম্বন্ধীয় (right iliac fossa) অংশে স্থানান্তর হয় ।
অগ্ন্যাশয়ে তীব্র প্রদাহ (Acute pancreatitis) - এপিগ্যাস্ট্রিয়ামে সাংঘাতিক পৃষ্ঠশূল এবং স্পর্শকাতরতা ।
আইবিএস (Irritable bowel syndrome) - ভোজনসংক্রান্ত ব্যথা যা খাবারের সাথে সম্পর্কিত ।
বিচ্ছেদ অন্ত্রবৃদ্ধি (Hiatus hernia) - এপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে ব্যথা ঘটায়।
পেটের এঞ্জিনা (Abdominal angina) - দীর্ঘস্থায়ী অন্ত্রের রক্ত সঞ্চালনের সমস্যার জন্য ভোজনসংক্রান্ত ব্যথা দেখা দেয়, সাধারণত মোচড়ানো ব্যথা হয় এবং পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কোলন কার্সিনোমা (Carcinoma colon) - ব্যথা নাভি স্তর থেকে নিচে ডান পাশ হয় ।
দ্বিপার্শিক ফেলোপিয়ান টিউব-ডিম্বাশয়ের প্রদাহ (Bilateral salpingo-ophoritis) - তলপেটে উভয় পাশ ব্যথা । ডিম্বাশয়ের সিস্ট - যাতে খুব তীব্র পেট ব্যথা উৎপাদন করে ।
অন্যান্য কারণ - পাকস্থলি ও অন্ত্রের প্রদাহ (Gastroenteritis), পরিপাক্তন্ত্রের প্রদাহ (Meckel’s diverticulitis), অন্ত্রে বাধা (Intestinal obstruction), ক্ষতসহ কোলন প্রদাহ (Ulcerative colitis), রক্তে এবং প্রস্রাবে অতিরিক্ত পরফাইরিন উপস্থিত(Porphyria), নিউমোনিয়া, বদহজম, প্লীহা ছিরে যাওয়া (Ruptured spleen), জরায়ুর বাইরে গর্ভাধারণ (Ectopic pregnancy), যকৃতের প্রদাহ (Hepatitis), জরায়ুর শ্লৈস্মিক ঝিল্লির প্রদাহ (Endometriosis), পাকাশয়ের প্রদাহ (Gastritis) ইত্যাদি পেট ব্যথায় অন্তর্ভুক্ত ।

রোগ নির্ণয় (Diagnosis):
রক্ত পরীক্ষা (Blood test) - কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) , গর্ভধারণ পরীক্ষা (pregnancy test), রক্ত ​​কালচার (blood culture), প্রস্রাব এনালাইসিস (urinalysis) ।
পেটের এক্সরে (X-ray abdomen) - রেনাল/কিডনি পাথর, অন্ত্রের বাধা নির্ণয় ইত্যাদি ।
পেটের সিটি স্ক্যান (Abdominal CT scan) - টিউমার সংক্রমণ, রেনাল//কিডনি পাথর, এপেন্ডিক্স প্রদাহসহ অভ্যন্তরীণ অঙ্গ এবং টিস্যু প্রদাহ নির্ণয় করে।
পেটের এমআরআই(Abdominal MRI) - টিউমারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নির্ণয় করে।
পেটের আল্ট্রাসাউন্ড (Abdominal ultrasound) - পেটের কাঠামো মূল্যায়ন, পিত্ত থলি পাথর, মূত্রাশয় পাথর, জরায়ুর বাইরের গর্ভাবস্থা  ইত্যাদি নির্ণয় করতে সাহায্য করে।


পেটের ব্যথা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা (Homeopathic treatment of abdominal pain) :
হোমিওপ্যাথি হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগীর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে নির্ণয় করে এবং উপসর্গ মিল তত্ত্ব উপর ভিত্তি করে ঔষধ নির্বাচনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। রোগীর সব চিহ্ন এবং উপসর্গ মুছে সম্পূর্ণ পূর্বাবস্থায় ফিরে যাবার মাধ্যমে একমাত্র উপায় এটি। হোমিওপ্যাথি উদ্দেশ্য ব্যথা চিকিতসা নয়, এর অন্তর্নিহিত কারণ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা মোকাবেলাও এর উদ্দেশ্য। পেট ব্যথার স্বতন্ত্র ঔষধ নির্বাচন এবং চিকিৎসার জন্য, রোগীকে একজন যোগ্যতাসম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত।

পেট ব্যথা চিকিৎসার জন্য কিছু দরকারী ওষুধ নিচে দেওয়া হল:
Nux Vomica - বিশেষ করে বদহজম জনিত কারণে পেটে ব্যথা জন্য নাক্স ভম একটি সেরা ওষুধ।
Colocynthis - উপোড় হয়ে পেট চেপে (bending double) বা কঠিন চাপ দ্বারা যে পেটে ব্যথা ভালো অনুভূত হয়, তাতে কলোসিন্থ ভালো কাজ করে ।
Pulsatilla - মসলা ও তৈল সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এবং প্যাস্ট্রি খাওয়ার পর সৃষ্ট পেট ব্যথায় পালসেটিলা খুবই কার্যকরী ।
Natrum carb - পেটের ব্যথা খাওয়ার দ্বারা উপশম হলে নেট্রাম কার্ব ব্যবহৃত হয়।
Cuprum met - ঠান্ডা পানীয় পান করলে মারাত্মক আক্ষেপে কুপ্রাম মেট।
Croton tig - হঠাৎ পেট ব্যথা সাথে অতিরিক্ত পানিযুক্ত ডায়রিয়া ক্রুটন টিগ।
Chamomilla - বিশেষ করে রাগের পরে আকস্মিক পেট ব্যথায় ক্যামোমিলা কার্যকরী ।
Dioscorea - নাভী অঞ্চলে ব্যথা, যা পিছনে বেঁকে (bending backward) থাকলে কমে, এতে ডায়স্কোরিয়া কার্যকরী।
Belladonna - অন্ত্রে বাধার (intestinal obstruction) কারণে পেটে ব্যথা হলে বেলেডোনা ।
Mag phos - মারাত্মক, আকস্মিক পেট ব্যথা যা গরম প্রয়োগে ভাল অনুভূত হয়, তাতে ম্যাগ ফস অত্যান্ত কার্যকরী ।
China off - ফুলে যাওয়া এবং পূর্ণতা সঙ্গে যুক্ত ইপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে ব্যথা, বিশেষভাবে খাওয়ার পরে হলে চায়না অফিসিনালিস কার্যকরী ।
Lycopodium - খাওয়ার পর পেটে ব্যথা, যা বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খুবই বেশি থাকে ।


পেট ব্যথার এলোপ্যাথিক চিকিৎসা (Allopathic treatment of abdominal pain) - কারণ বা মেডিক্যাল অবস্থার (medical condition) উপর চিকিৎসা নির্ভর করে; এছাড়াও কয়েকটি ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারও লাগে।

পেটের ব্যথা অন্যান্য বিকল্প চিকিৎসা (Other alternative treatment of abdominal pain) - প্রাকৃতিক উপায়ে চিকিৎসা (naturopathy), আয়ুর্বেদ, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি৫, ধ্যান (meditation) ইত্যাদি ।